ভোট বর্জনের ঘোষণা হিন্দু মহাজোটের

নিজস্ব প্রতিবেদক ও বিশ^বিদ্যালয় প্রতিবেদক
১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ০২:০৬

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনের তারিখ না পাল্টালে সেদিন রাজপথে অঞ্জলি নিয়ে কালো পতাকা মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় হিন্দু মহাজোট। ৩০ জানুয়ারি সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পূজাও করবেন তারা। নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তে অটল থাকলে ভোট বর্জনের ঘোষণাও দিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে মহাজোটের মুখপাত্র পলাশ কান্তি দে বলেন, আমরা ৩০ জানুয়ারির ঢাকা সিটির ভোট বর্জন করছি। কোনো হিন্দু ভাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। কোনো প্রচারে অংশ নেবেন না। ওইদিন সকাল ৮টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঘটপূজা করে রাজপথে অঞ্জলি নেব এবং কালো পতাকা মিছিল
করব।
তিনি বলেন, যারা একটি সম্প্রদায়কে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায়, তারা সাংবিধানিক কোনো পদে থাকতে পারে না। এই কমিশনের প্রতি আমাদের আর আস্থা নেই। আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছি। আমাদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করতে সব মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীকে অনুরোধ করছি। এই কমিশন দিয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু ভোট আশা করা যায় না মন্তব্য করে পলাশ কান্তি দে বলেন, যারা একটি বৃহৎ সম্প্রদায়কে ভোটদান থেকে বিরত রাখতে চায়, তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তারা মুজিববর্ষের বাংলাদেশকে বিতর্কিত করতে চায়।
নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা সম্ভব মন্তব্য করে মহাজোটের সমন্বয়কারী শ্যামল কুমার রায় বলেন, ১০ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে কমিশন। এরপর ১৫ দিন প্রচারের সময় আছে। এ সময় পার হওয়ার পর ২৪ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত যে কোনো দিন নির্বাচন করা যায়। সুতরাং নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা যেতে পারে। কিন্তু পূজার তারিখ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, মেয়র প্রার্থী সবাই তারিখ পরিবর্তনের পক্ষে বলেছেন, সেতুমন্ত্রীও বলেছেন। এখন শান্তিশৃঙ্খলা বিঘœ হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে, ধর্মীয় সেন্টিমেন্টের ব্যাপার। এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এত হার্ডলাইনে কেন? নির্বাচনের তারিখ কি আসমানি বিধান যে ওই তারিখেই হতে হবে। এটি অবশ্যই পরিবর্তন করা যাবে।
বিষয়টি সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা কিনাÑ সেই সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীতের নির্বাচন কমিশনের মতো এই কমিশনের ভেতরেও গলদ রয়েছে নাকি? যে দলের নেতৃত্বে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই দল ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এরা কারা? দেশের স্বাধীনতার পেছনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবদান যারা খাটো করে, তেমন চিন্তা-চেতনাকারীরাই এই ধরনের তারিখ দিতে পারে।
নির্বাচন কমিশনকে হুশিয়ার করে মহাজোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রভাস চন্দ্র ম-ল বলেন, দেশে দুই থেকে আড়াই কোটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ আছে। এমন তারিখ দিয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অবমাননা করা হয়েছে। এই তারিখ পরিবর্তন না করা হলে কঠোর থেকে কঠোরতর কর্মসূচি আসবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে হিন্দু মহাজোটের সহসভাপতি ডিসি রায়, রণজিত মৃধা, যুগ্ম মহাসচিব সমীর সরকার, অখিল ম-ল, ফণিভূষণ হালদার উপস্থিত ছিলেন।
অনশনে অসুস্থ ৯ শিক্ষার্থী
সিটি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের দাবিতে চলা আমরণ অনশনের দ্বিতীয় দিনে ৯ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গতকাল তাদের তিনজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তারা ফের অনশনে বসেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় ক্যাম্পাসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশনে বসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ১৭ শিক্ষার্থী।
অনশনে অসুস্থ শিক্ষার্থীরা হলেনÑ ঢাবির জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি উৎপল বিশ্বাস, জিএস কাজল দাস, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স বিভাগের অপূর্ব চক্রবর্তী, সয়েল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের অর্ক সাহা, জয়ন্ত বণিক ও ভবতোষ চন্দ্র রায়, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্টের সবুজ কুমার, পালি অ্যান্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজের সুকেশ দেবনাথ, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির রবিউল আওয়াল রবি। চিকিৎসা নিয়ে ফেরা ৩ জনসহ তাদের সবাইকেই রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।
গতকাল বিকালে ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনশনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানান। তিনি বলেন, ৩০ তারিখ নির্বাচনের দিন ঠিক করার আগে নির্বাচন কমিশনের ভাবা উচিত ছিল, এই তারিখটি কোনো মূল্যবোধ, কোনো চেতনার পরিপন্থী হয় কিনা।