কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:৪৭

ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের সব ধরনের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল বুধবার বিকালে নির্বাচন ভবনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে এ নির্দেশ দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম, অভিযোগ, বিচ্যুতির খবর নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত যেন না আসে। সেটি যেন মাঠেই সমাধান করা হয়। কোনো ধরনের অনিয়ম ও ত্রুটি বিচ্যুতি দেখতে চাই না। আমরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখব। বিচ্যুতি দেখলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বৈঠকে অংশ নেওয়া কয়েক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে ভোটের দিন ও আগে বেশ কিছু ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে সহিংসতা হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা। এ ছাড়া ফেসবুকে গুজব রটিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করা হতে পারে বলেও জানান তারা।
সভায় একটি সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, দুই সিটিতে ৫৩ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ১৫-২০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। তারাও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য হুমকিস্বরূপ। জবাবে একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইন অনুযায়ী ওয়ারেন্ট একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া। এটি অনুসরণ করতে হবে। অপর এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, আইনের বাইরে বলার কিছু নেই। তবে প্রার্থীদের গ্রেপ্তার করা হলে ইসির ওপর কালিমা আসে। আপনারা ভোটের আগে ওয়ারেন্ট থাকলেও গ্রেপ্তার না করার চেষ্টা করবেন। অনেক কিছুই অ্যাডজাস্ট করেন, এ বিষয়টিও অ্যাডজাস্ট করার চেষ্টা করবেন। নির্বাচনের পর গ্রেপ্তার করুন।
বৈঠকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেন, আমরা চাইÑ প্রত্যেক ভোটার যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন, ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারেন। নির্বাচনে প্রার্থী এবং তার এজেন্ট যাতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সিইসি বলেন, আমাদের কাছে বারবার অভিযোগ আসে এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় না বা বের করে দেওয়া হয়। এসব ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। এজেন্টকে বাড়ি থেকে এনে প্রবেশ করানোর দায়িত্ব আমরা নিতে পারি না। এজেন্ট যখনই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তখন দায়িত্ব আমাদের ওপর।
ইভিএম নিয়ে বিরোধিতার প্রেক্ষাপটে সিইসি বলেন, ইভিএমে ভুয়া ভোটার ভোট দিতে পারবে না। অভ্যাসগতভাবে বিরোধিতা করা হয়, সমালোচনা হয়। আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি, ইভিএমের পরিচিতি আরও বাড়িয়ে দিলে একদিন এটি দিয়ে নির্বাচন হবে সবখানে।
সভায় নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ইভিএমে ৫০ শতাংশ ভোট না পড়লে ব্যালট পেপারে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা উচিত। তিনি বলেন, ঢাকার সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে এ যন্ত্রটির ভবিষ্যৎ।
বৈঠকে এনআইডির ডিজি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুল ইসলাম ইভিএমের ওপর নিবন্ধ উপস্থাপন করে বলেন, ইভিএম ছিনতাই করে কোনো লাভ নেই।
বৈঠক শেষে ইসি সচিব মো. আলমগীর জানান, গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে ১৮টি কেন্দ্র ঝুঁঁকিপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য ভোটের দিন মাঠে থাকবেন। সাধারণ কেন্দ্রে বাহিনীর ১৬ ও গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে ১৮ জন সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব, বিজিবি থাকবে। ভোটারদের ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে চলাচলের প্রস্তাবে পুলিশ বাহিনী সম্মত হয়নি বলে জানান তিনি। ঢাকা উত্তরে বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, অভিযোগটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ওসিকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর একটিও না ঘটে।
সভাশেষে পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এখন পর্যন্ত উৎসবমুখর ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রয়েছে। আশা করছি আর যে কদিন আছে, উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় থাকবে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে সুন্দর একটি পরিবেশ বজায় রাখার জন্য।
সভায় ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম, ইসি সচিব মো. আলমগীর এবং মহাপুলিশ পরিদর্শক, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের মহাপরিচালক, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকার পুলিশ সুপার।