অভিযোগে বিদ্ধ করার লড়াই

নজরুল ইসলাম
২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০৯:২২

ঢাকার দুই সিটির ভোটের দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রঙ পাল্টাচ্ছে নির্বাচনী পরিস্থিতি। প্রায় নিয়মিতই ছোটখাটো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তোপ দাগাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা। এতে উত্তাপ ছড়াচ্ছে নির্বাচনী মাঠে।

উত্তর সিটিতে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলার ঘটনায় দুই পক্ষ একে অপরকে ‘কটাক্ষ’ করে বক্তব্য রাখছে। এ কারণে নির্বাচনী মাঠে উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। তবে এসব কিছুর মধ্যেই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বড় দল দুটির চার মেয়র প্রার্থীর জমজমাট গণসংযোগ থেমে নেই।

তাবিথ আউয়ালের ওপর দুই দফায় তিনবার হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার গাবতলীতে একই স্থানে তিনি এসব হামলার শিকার হন। হামলার কয়েক ঘণ্টা পর তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আতিকুল ইসলাম বিষয়টিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলে মন্তব্য করেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, হামলায় কারসাজির গন্ধ পাচ্ছেন তিনি। গতকাল বুধবার এর জবাব দেন তাবিথ। তিনি বলেন, গণজোয়ারে ভীত হয়ে তার প্রতিপক্ষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। দক্ষিণ সিটিতে বিএনপি মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেনও গতকাল বলেন, তাবিথ আউয়ালের ওপর ন্যক্কারজনক হামলা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার বেশি হতে চলল, এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা নির্বাচনী পরিবেশ, হামলা-মামলা ও প্রচারে বাধা নিয়ে প্রতিনিয়ত অভিযোগ করে আসছেন। এরইমধ্যে দুই সিটি মিলিয়ে তাদের ৯০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে উত্তরে ২২ আর দক্ষিণে ৬৬টি অভিযোগ। মঙ্গল ও বুধবার দুই দিনে বিএনপির উচ্চপর্যায়ের দুটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন। গতকাল সকালে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে বিএনপির প্রতিনিধি দল তাবিথের ওপর হামলার অভিযোগে ঢাকা উত্তরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী মুজিব সরোয়ার মাসুমের প্রার্থিতা বাতিল এবং দারুসসালাম থানার ওসিকে বরখাস্তের দাবি জানান। তাবিথের ওপর হামলার বিষয়ে সিইসি

কে এম নূরুল হুদা গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেছে, ওসি ও নির্বাহী হাকিমদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেখব। কোন অবস্থায় কার কতটুকু বিচ্যুতিÑ দেখব, ছাড়ব না। গতকাল কক্সবাজারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বলেন, তাবিথের ওপর হামলা ইসির গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।

১০ জানুয়ারি প্রতীক নিয়ে গণসংযোগ শুরু হওয়ার পর উত্তর সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে অন্তত ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দক্ষিণেও বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকালও ঢাকা উত্তরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড এবং ৫০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর শরিফউদ্দিন জুয়েল ও নাজিম উদ্দিন দেওয়ান প্রতিপক্ষের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দাবি, গত মঙ্গলবার মিরপুরের গাবতলী এলাকায় তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলাসহ দুটি ছাড়া বাকি প্রায় সব অভিযোগের নিষ্পত্তি তারা করেছেন। কিন্তু বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরা বলছেন, কোনো অভিযোগই আমলে নিয়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিদিন হামলা ও বাধা দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ এসেছে দুটি বাদে আমরা তা নিষ্পত্তি করেছি। দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ এসেছে তা খুব গুরুতর নয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিষ্পত্তি করে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আমাদের সময়কে বলেন, হামলা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছেন না। অভিযোগগুলো তদন্ত করে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না। ফলে প্রচারে বাধা ও হামলার ঘটনা বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারে।

নির্বাচনী প্রচার শুরুর তৃতীয় দিনে ১২ জানুয়ারি তাবিথ আউয়ালকে প্রথম বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে মিরপুরের শাহ আলী এলাকায়। সেখানে তাবিথ আউয়াল জনসংযোগে গেলে স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একদল নেতাকর্মী জয় বাংলা সেøাগান দিয়ে বাধা দেন। একই দিন দক্ষিণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেন।

এর কয়েকদিন পর বিএনপির দুই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ক্রমাগত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থী বলেছেন, বিএনপির কাজই নালিশ করা। ওই সময় ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, বিএনপির প্রার্থীরা শুধু অভিযোগ করছেন, আমরা করছি প্রচার। আর আতিক বলেন, বিএনপি অভিযোগ করে, আমরা উন্নয়নের কথা বলি।

প্রার্থীদের অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের মধ্যে মুখ খুলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং বিএনপি মহাসচিবও। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, তাদের প্রার্থীর বিরুদ্ধে হামলা হচ্ছে, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে। জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিএনপি নানা অভিযোগ করছে।