প্রতিরোধে প্রয়োজন সচেতনতা

২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২০ ০০:০৭

কিডনি আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। কিডনি অকেজো হয়ে পড়লে মৃত্যু বলা চলে নিশ্চিত। নানা কারণে আমাদের কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সঠিক সময়ে বুঝতে না পারার কারণে যখন রোগ ধরা পড়ে, তখন বলতে গেলে বেশ দেরিই হয়ে যায়। গতকাল আমাদের সময়ের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর ৪০ হাজার মানুষ কিডনি বিকল হয়ে মারা যায়। কিডনি ডায়ালিসিস সেন্টার, ডায়ালিসিস মেশিন ও প্রশিক্ষিত জনবলের অভাবে এসব রোগীর মধ্যে মাত্র ১০ হাজার চিকিৎসা পান। অবশিষ্ট ৩০ হাজার রোগীর মধ্যে স্বল্পসংখ্যক কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া অধিকাংশ রোগী প্রায় বিনাচিকিৎসায় মারা যান।

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় আশানুরূপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রথাগত চিকিৎসার পাশাপাশি এখন আমাদের দেশে নিউরোসার্জারি, এনজিওগ্রাম, হার্ট সার্জারি, যেমনÑ বাইপাস, রিং লাগানো, ভালভ প্রতিস্থাপন এই সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ। রাজধানীসহ সারাদেশে কিডনি সার্জন ও চিকিৎসকরা সফলতার সঙ্গে প্রায় ২ হাজার কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ৫৫৮ জনের কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছেন, বাংলাদেশে ক্যাডাবেরিক ট্রান্সপ্লান্ট (ব্রেইন ডেথ ঘোষিত রোগীর কিডনি সংগ্রহ) সার্জারি শিগগির শুরু করতে পারব। কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এটি ঠিক, কিডনি চিকিৎসা ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কম। রোগী বেশি। অনেক রোগী দিশাহারা হয়ে যান। কিন্তু একটু সচেতন হলে হয়তো কিডনি রোগে এমন বিপন্ন অবস্থায় পড়তে হয় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরে একবার হলেও কিডনি পরীক্ষা করা দরকার। ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। জনস্বাস্থ্য শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মশা-মাছি ধ্বংস করা ও ভেজাল খাদ্যবিরোধী অভিযান চালানো উচিত। বিরত থাকতে হবে খোলা খাবার গ্রহণ থেকে। পরিমিত পানি ও সুষম খাবার গ্রহণ করতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজে লাগাতে হবে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে। শুধু কিডনি নয়, যে কোনো অসংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকার জন্য সচেতনতা দরকার। একটু সচেতন হলে অসুখ-বিসুখ থেকে আমরা সহজেই মুক্ত থাকতে পারি।