৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে চায় সৌদি আরব

কামাল পারভেজ অভি,সৌদি আরব
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৭:২৯ | আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৭:২৯
প্রতীকী ছবি

সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে চায় দেশটির সরকার। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে তাগিদ দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টিতে বাংলাদেশ কী অবস্থান নেবে তা এখনও ঠিক করতে পারেনি সরকার।

সৌদি আরবের স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, দেশটিতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছেন, যারা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী। কাজের মেয়াদ শেষ হলেও তারা সেখানে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। শুধুমাত্র তাদেরকেই বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে সরকার।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্তকর্তাদের ভাষ্য, সৌদিতে থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ নিতে চায় না। যেসব রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বসবাস করছেন, তাদের ফেরত না নিলে সৌদির শ্রমবাজারে প্রভাব পড়বে। এ ছাড়া বাংলাদেশও নিজেদের শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরতে পারছে না।

আগামীকাল বুধবার ঢাকায় দুই দেশের যৌথ কমিশনের দুদিনব্যাপী বৈঠক রয়েছে। এ বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাগণ।

এ সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিকে বলেছেন, ‘সৌদি সরকার রোহিঙ্গা ফেরতের ব্যাপারে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।’ অন্য কোনো দেশে বসবাস করা রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফেরত পাঠাতে হলে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উচিৎ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে সৌদি সরকার। সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সূত্রে এ খবর জানা গেছে। সূত্র বলছে, ‘বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহারের বিষয়টি’ উল্লেখ করে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে বলছে সৌদি আরব।

জানা গেছে, ৯০ দশকের শেষ দিকে ৩ লাখের মতো রোহিঙ্গা সৌদি আরব যায়। দেশটির সরকার শরণার্থী হিসেবে তাদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেয়। তবে ২০১৪ সাল ও তার পরে যে সকল রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরব গিয়েছেন, কাজের ও ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তারা অবৈধ হয়ে পড়েছে। যে কারণে বড় একটি প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের প্রতি।

সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসিহ এ ব্যাপারে বলেন, ‘বাংলাদেশ-সৌদি আরব যৌথ কমিশনের বৈঠকে এ দেশের সরকার যদি বিষয়টা উত্থাপন করে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে।’

গোলাম মসিহ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট বা কাজের মেয়াদ শেষ হলে তারা বিভিন্ন সময় জানায়। তখন যাচাই-বাছাই করা হয়। আমার মনে হয় না, এ নিয়ে কোনো সমস্যা হবে। দুই দেশে সম্পর্ক এখন খুবই ভাল। ফলে কোনো সমস্যা আমরা দেখি না। যৌথ কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি যদি তারা উত্থাপন করে, সেইভাবে আমরা অবস্থান তুলে ধরবো।’

অপরদিকে যে সব রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বলা হচ্ছে; তাদের কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে, বিষয়টি আসলে সঠিক কিনা, তা যাচাই-বাছাইয়ের দরকার আছে। অনুমানভিত্তিক তথ্য কোনো সরকারই গ্রহণ করে না- বাংলাদেশ থেকে এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হচ্ছে সৌদি আরবের কাছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ভালো অবস্থায় রয়েছে। বাংলাদেশ তা ধরে রাখতে চাইছে বলে মন্তব্য দুই দেশের কূটনেতিকদের। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে ২০ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক কাজ করছেন। দুটি বিষয় বিবেচনায় থাকায়, সৌদির বিরুদ্ধে কোনো কঠোর অবস্থানে যেতে চাচ্ছে না বাংলাদেশ। রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিতে না পারে, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর হওয়া উচিৎ বলে মন্তব্য তাদের।