দেশে সব ধরনের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ : পাপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
১৯ মার্চ ২০২০ ১৫:২২ | আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২০ ১৫:৩০
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ছবি : আমাদের সময়

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দেশের সব ধরনের ক্রিকেট। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্বীকৃত কোনো খেলা মাঠে গড়াবে না।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এর আগে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এক রাউন্ডের খেলা স্থগিত করেছিলাম। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সব ধরনের ক্রিকেট অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হলো।’

১৫ এপ্রিল পর্যন্ত খেলা শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পাপন বলেন, ‘আমরা দেখলাম যে, এখন অনেক কিছুই বদলাচ্ছে, খেলোয়াড়দের ইচ্ছেটাও আগের মতো নেই। এ ছাড়া কিছু ভিন্নমতও আসছে। তো সবদিক বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, দেশের সবধরনের ক্রিকেট বন্ধ, আপাতত স্থগিত। পরবর্তী ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত, পরিস্থিতি উন্নতির আগে আমরা কিছু বলতে পারছি না। পরিস্থিতি বদলালে আমরা খেলা শুরুর নতুন সূচি ঘোষণা করে দেব।’

প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের আরও একটি বড় পরিচয় আছে। তিনি বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মহাব্যবস্থাপক। বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা করোনাভাইরাস নিয়ে গত কিছুদিন ধরে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ওষুধ শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি হিসেবে পাপনকে প্রশ্ন করা হয়, করোনা নিয়ে কোনো কাজ করছেন কিনা? উত্তরে পাপন বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে আমি এটা (করোনাভাইরাস) নিয়েই কাজ করছি। প্রতিদিনই মিটিং হচ্ছে, আলোচনা হচ্ছে। আজকেও সরকারের সঙ্গে একটা মিটিং আছে।’

এদিকে, দেশে নতুন করে আরও তিনজন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।  এ নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭ জনে। নতুন আক্রান্তরা ইতালি ফেরত এক ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। 

তবে দেশে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা একজনই বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। গতকাল বুধবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আইইডিসিআর।

করোনাভাইরাস নিয়ে আইইডিসিআরের হটলাইনে এখন পর্যন্ত মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৮ জন সেবা নিয়েছেন বলেও জানান আবুল কালাম আজাদ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করেনাভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। তবে প্রথমধাপে আক্রান্তদের তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।