করোনা প্রাদুর্ভাবে শারীরিক সম্পর্ক ঝুঁকিপূর্ণ?

অনলাইন ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২০ ০৮:১৬ | আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২০ ০৯:০০

গোটা বিশ্বে করোনাভাইরাস মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) একে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই অবস্থায় লকডাউনের দেশগুলিতে এবং লাখ লাখ মানুষের ঘরে থাকার কারণে এই ভাবনা আশ্চর্যজনক নয় যে যৌনজীবনে করোনভাইরাস ঝুঁকিপূর্ণ কি-না?। মহামারি চলাকালীন শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে তিনজন বিশেষজ্ঞের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। চলুন সেগুলো দেখে নেওয়া যাক-

কোভিড-১৯ কী শারীরিক মিলনে ছড়ায়?

ড. জেসিকা জাস্টম্যান : করোনাভাইরাসে আমরা এমন কোনো প্যাটার্ন দেখছি না, যা যৌন মিলনে সংক্রমিত হয়। এই ভাইরাস মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের জলীয়কণার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এবং ভাইরাসবাহিত কোনো কিছু স্পর্শ করলে অন্য জায়গায় এটি ছড়িয়ে পড়ে বল মনে করা হয়।

ড. কার্লোস রদ্রিগেজ-দাজ : কোভিড-১৯ যোনি বা মলদ্বার দিয়ে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে যৌন মিলনের সময় গাঢ় চুম্বনের মাধ্যমে লালা রস বিনিময় হয়। তাই এটি ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। কোভিড-১৯ মুখের মাধ্যমে সংক্রমণের প্রমাণও রয়েছে এবং এর থেকে বোঝা যায় যে অ্যানালিংসের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

তাহলে কী শারীরিক সম্পর্ক করা যাবে?

ডা. জাস্টম্যান : আপনি বা আপনার সঙ্গী যদি করোনাভাইরাস পজিটিভ হোন তবে পরামর্শ হলো, যতটা সম্ভব একে অপরকে পরিচ্ছন্ন রাখা, মুখের সংস্পর্শে না আসা।

ড. জুলিয়া মার্কাস : তবে যাদের করোনাভাইরাসের লক্ষণ নেই, সম্ভাব্য কোনো ঝুঁকিও নেই এবং যারা বাড়িতেই থাকেন তাদের বেলায় বিষয়টা অন্য রকম। আপনি যদি আপনার সঙ্গীর সঙ্গেই থাকেন এবং আপনার কোনো লক্ষণ নেই, তবে নিশ্চিন্তে শারীরিক সম্পর্ক করুন। কারণ এটি একে অপরের সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় করতে, জীবনকে আনন্দঘন করতে এবং চলমান মহামারির উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সত্যিই দুর্দান্ত উপায় হতে পারে।

বাইরে বের হতে হলে করণীয় কী?

মার্কাস : এই সময় পরামর্শ হলো আমরা যতটা পারি বাড়িতে থাকার চেষ্টা করি এবং কেবল প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের জন্য বাইরে যেতে পারি। বাইরে বের হলে অন্য মানুষের সঙ্গে প্রায় ৬ ফুট শারীরিক দূরত্ব রাখার চেষ্টা করুন। এই সতর্কতা অবশ্যই আপনার যৌন জীবনকে নিরাপদ রাখবে।

রদ্রিগেজ-দাজ : এই পরিস্থিতিতে কয়েক সপ্তাহ শারীরিকভাবে কম মিলিত হতে পারেন। তবে দূর থেকে ভিডিও কলে সংযুক্ত হয়ে ভালোবাসা-আবেগ প্রকাশ করতে পারেন।

আমরা জানি না এই মহামারি কত দিন চলবে। যে এখন অবিবাহিত এবং কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে চায় না তার জন্য কী পরামর্শ?

রদ্রিগেজ-দাজ : আপনি যদি খুব বেশি দিন ধরে এই দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন থাকেন তবে নিশ্চিত হোন আপনি এবং আপনার পরিচিত লোকেরা এখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন। আমরা যত তাড়াতাড়ি এটি করব, তত তাড়াতাড়ি আমরা নতুন সংক্রমণের হ্রাস করতে পারবো। ভবিষ্যতের দিকে মনোনিবেশ করার পরিবর্তে আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে মনোনিবেশ করা উচিত।

এটা একটা দারুণ সময় নিজেকে আবিষ্কার করার। কয়েক সপ্তাহ ব্যয় করুন, আপনি যা চান তা নিয়ে ভাবুন এবং আপনি নিজে থেকে এটি করতে পারেন। নতুন করে সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য নানা উপায় ভাবার দুর্দান্ত সুযোগ হতে পারে এই সময়। তবে আপনি আপাতত ভিডিও কলের মাধ্যমে সঙ্গীর সঙ্গে যৌন অনুভূতি ভাগাভাগি করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞ

ড. জেসিকা জাস্টম্যান কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইরভিং মেডিকেল সেন্টারে সংক্রামক রোগ বিভাগে একজন অধ্যাপক এবং চিকিৎসক।

ড. কার্লোস ই রদ্রিগেজ-দাজ জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্কেন ইনস্টিটিউট স্কুল অব পাবলিক হেলথের অধ্যাপক।

ড. জুলিয়া মার্কাস একটি সংক্রামক রোগ মহামারি এবং হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের জনসংখ্যা বিভাগের অধ্যাপক।