করোনা রাত

আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী
২৬ মার্চ ২০২০ ১৭:০১ | আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২০ ১২:০১
অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী

গতকাল ছিল ২৫ মার্চ। বাংলার ইতিহাসে ২৫ মার্চের রাত এক দুঃসহ স্মৃতি বয়ে আনে। একাত্তরের এই ভয়াল রাতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাংলাদেশে গণহত্যার নীল নকশা রচনা করেছিল। অপারেশন সার্চলাইটের নামে সেই রাতে নারকীয় এক হত্যাযজ্ঞের লক্ষ্যস্থলে পরিণত হয়েছিল পিলখানা, রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসস্থল, বিশেষত ইকবাল ও জগন্নাথ হল, ছিন্নমূল ও হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকা, অসমসাহসী বাংলা ও ইংরেজি সংবাদপত্র ‘ইত্তেফাক’ ও ‘পিপল’-এর কার্যালয়।

পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলায় এই দিনে প্রাণ হারানো শহীদদের শ্রদ্ধাভরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে এ বছর দিনটিতে স্মৃতিচারণমূলক আয়োজনগুলো আর হয়ে ওঠেনি।

সেই ২৫ মার্চের রাত আর করোনাভাইরাসের ভয়াবহতাকে এক করে কবিতা লিখেছেন অধ্যাপক আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষক।

 

করোনা রাত

আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী

এক অন্যরকম পঁচিশের রাত হয়ে আসে

রক্ত গুটিকার মতো করোনা রাত;

অতর্কিতে অবতরণ করে বিস্তীর্ণ চরাচরে

নিশ্চিন্ত অপ্রস্তুত মানুষের ওপরে।

করোনা তার পিপাসু প্রবণতা প্রসারিত করেছে

এক গোলার্ধ থেকে অন্য গোলার্ধে;

অঘোষিত যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে মানুষের বিরুদ্ধে,

সেডিস্টিক উল্লাসে মেতে উঠেছে করোনা।

 

না, করোনা কর্ডেলিয়া নয়, ন্যায়বাদী শাহজাদি নয়;

বরং লেডি ম্যাকবেথের মতো বিকৃত মানসিকতায়

নির্মম মৃত্যুর সবরকম আয়োজন সে করে-

কিংবা নাটকের ডাইনিত্রয়ের মতো

অশুভ, অন্ধকার, বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে আসে-

আয়োনেস্কোর ‘ঘাতক’-এর মতো যুক্তিহীন হয়।

 

অন্যরকম রাত হয়ে এসেছে করোনা,

সে রাতের সাথে চলছে মানুষের লড়াই;

চিরকাল চলে লড়াই - উদ্বর্তনের লড়াই-

কালো রাত এক সময় অতিক্রান্ত হয়-

অরুণোদয়ে উদ্ভাসিত হয় তমসাবৃত অধ্যায়-

এ লড়াইয়ের কোনো পরিসমাপ্তি নেই,

অমানিশা ফিরে আসে ভিন্ন ভিন্ন রূপে এবং

আলোর জন্য অব্যাহত থাকে অন্তহীন লড়াই।