করোনা ঠেকাতে নরসিংদীর ডিসির নানা উদ্যোগ

শাহীন মিয়া,নরসিংদী
২৮ মার্চ ২০২০ ২০:০৭ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২০ ২০:১৮
প্রেস ব্রিফিংয়ে নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। ছবি : আমাদের সময়

সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় উদ্বিগ্ন দেশের মানুষ। করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে নরসিংদী জেলা প্রশাসন।

করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে নরসিংদী জেলার প্রতিটি উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ে ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৬ শতাধিক প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টিনে নিতে পেরেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলা পুলিশ, সির্ভিল সার্জন, সাংবাদিক, সামাজিক বিভিন্ন সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলে আতঙ্ক নয় এখন নরসিংদীর মানুষ সচেতন হয়েছে। সচেতনার ফলে নরসিংদীতে এখনো কোনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়নি। এতে করে কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে এখানকার মানুষ।

জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা সর্ম্পকে প্রেস ব্রিফিং করেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ও প্রবাসীদের খুঁজে বের করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে উপজেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ছয় শতাধিক বিদেশে ফেরত প্রবাসীকে ১৪ দিনের জন্য আলাদা রাখতে আমরা সক্ষম হয়েছি।’

‘অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে আমরা একটি ইমারজেন্সি সেল গঠন করেছি, সেখানে তাদের মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। করোনা আক্রান্তর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে এই ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করলে তাদের বাসায় আমাদের চিকিৎসক টিম চলে যাবে। এ ছাড়া ছয়টি পৌরসভায় ও ছয়টি উপজেলায় রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে এবং চিকিৎসাকদের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রোগী আনা-নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্সসহ মোট দশটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করে প্রতিদিন প্রচারণা চলছে’, যোগ করেন ডিসি।

ডিসি বলেন, ‘জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে বেলাব উপজেলায় একটি ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এবং ছয়টি উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩১ বেড প্রস্তুত রেখেছে। এ ছাড়া শিবপুর উপজেলা মা ও শিশু হাসপাতাল তৈরি করা হচ্ছে।’

সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন জানান, নরসিংদীর ছয়টি উপজেলায় কাঁচাবাজার এবং ওষুদের দোকানে সামনে বৃত্তাকার গোল চিহ্ন দাগ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। যাতে মানুষ ১.৮ মিটার দুরে থেকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পণ্য বা ওষধ ক্রয় করতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দুস্থ পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। ছবি : আমাদের সময়

 

এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডার থেকে ১০ হাজার গরিব পরিবারের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসন। আজ শনিবার নরসিংদীর শীলমান্দি ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে ১০ জন হত দরিদ্র পরিবারের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়ে বিতরণ কাজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন। বিতরণকৃত খাদ্রসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে, প্রতি পরিবারের জন্য ১০ কেজি চাল, ২ কেজি ডাল, ৫ কেজি আলু, একটি সাবান ও একটি করে মাস্ক।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রায় ১০ হাজার হত দরিদ্রের মাঝে আমরা খাবার বিতরণ শুরু করেছি। এ কার্যক্রমটি অব্যাহত থাকবে। কোনো দরিদ্র মানুষ না খেয়ে থাকবে না। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানরাও গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ালে আমরা সহজেই এ করোনাভাইরাসের মোকাবেলা করতে সক্ষম হবো। আল্লাহর রহমতে আমাদের নরসিংদীতে এখনো কোনো করোনা রোগী পাইনি।’