জ্বর-শ্বাসকষ্টে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান, গ্রাম লকডাউনের সুপারিশ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
২৯ মার্চ ২০২০ ০০:০৭ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২০ ০১:৩৬

এক শিশুসহ ঠাকুরগাঁওয়ে একই পরিবারের পাঁচজন জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছেন। ওই ব্যক্তিরা করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারেন- সন্দেহে তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরে স্বাস্থ্য বিভাগের এক জরুরি সভায় গ্রামটি লকডাউনের সুপারিশ করা হয়।

আক্রান্তদের বাড়ি সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের আলাদি নদীর পাড় গ্রামে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।

আইয়ুব আলী জানান, চিলারং ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ঢাকার রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী রুহুল আমীনের (৩০) স্ত্রী সন্তানসহ তার পরিবারের পাঁচজন জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদেরকে স্বাস্থ্য বিভাগ আজ শনিবার বিকেলে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, আজ দুপুর আড়াইটার দিকে ওই অসুস্থ্ ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাকে জানান, শরীরে জ্বর নিয়ে রুহুল আমীনসহ তার পরিবার গত শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে ঠাকুরগাঁওয়ে আসেন। বাসায় আসার পর তাদের জ্বরের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়।

কীভাবে তারা আক্রান্ত হলেন, এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জানতে চাইলে রুহুল আমিন তাকে জানান, গত ১৩ মার্চ তিনি পরিবারসহ মাদারীপুরে পিকনিকে গিয়েছিলেন। সেখানে অনেক মানুষজন উপস্থিত ছিল। মাদারীপুর থেকে ঢাকা এসে তারা জ্বরে আক্রান্ত হন। সেখানে তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এরপরও তারা গ্রামের বাড়িতে চলে এসে এলাকায় ঘোরাফেরা করেন। শুক্রবার জুমার নামাজও পড়েন রুহুল।

ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. নাদিরুল আজিজ বলেন, তাদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়েছে। অসুস্থদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। বাকিরা তেমন অসুস্থ নয়।

তিনি আরও বলেন, এ হাসপাতালে আইসিইউর ব্যবস্থা না থাকায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরামর্শে ওই পাঁচজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে জেলা সিভিল সাজর্ন ডা. মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য বিভাগ এক জরুরি সভা ডাকে। সেখানে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সর্তকর্তার জন্য ওই গ্রামটিকে লকডাউন করা উচিত মনে করে সুপারিশ করা হয়।’