করোনায় শুটিং : ফেঁসে গেলেন সিয়াম-পরী

বিনোদন প্রতিবেদক
২৯ মার্চ ২০২০ ১৪:০৪ | আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২০ ১৪:১৭
‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিংয়ের একটি দৃশ্য। ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস আতঙ্ক বিরাজ করছে। করোনার কারণে ইতিমধ্যেই ঘরবন্দী হয়ে পড়েছে মানুষজন। সারা বিশ্বের মানুষের মতো দেশের মানুষও ভাইরাসটি নিয়ে আতঙ্কিত। করোনার কারণে ইতিমধ্যেই দেশের সরকার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। বন্ধ হয়েছে সিনেমা হল, শুটিংসহ সকল সভা-সমাবেশ।

তবে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই সুন্দরবনে শুরু হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ ছবির শুটিং। আর গত ১৪ মার্চ থেকে এতে অংশ নেন সিয়াম আহমেদ, পরীমনি, আবু হুরায়রা তানভীর। সঙ্গে আরও আছেন ছবির ১৪ জন শিশুশিল্পীসহ প্রায় ৫০ জনের একটি সিনেমা ইউনিট। কথা ছিল, টানা ২৫ দিন শুটিং করে ঢাকায় ফিরবেন তারা।

কিন্তু করোনার কারণে পুরো শুটিং ইউনিট পড়েছেন বিপাকে। আটকা পড়েছেন লঞ্চে। প্রশাসন থেকে ঢাকায় ফেরার অনুমতিও মিলছে না। 

দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে ছবির নির্মাতা আবু রায়হান জুয়েল বলেন, ‘আমরা সুন্দরবনের যে স্থানে শুটিং করেছি, সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না বললেই চলে। তাই শুটিংয়ের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জানতে আমাদের সময় লেগেছে। আমরা সবার সঙ্গে আলোচনা করে গত ২৬ তারিখ থেকে শুটিং বন্ধ রেখেছি। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত লঞ্চের মধ্যেই অবস্থান করছি।’

এখন কোথায় আছেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা খুলনা পার হয়েছি। এখন মাঝনদীতে, স্থানটার নাম বলতে পারছি না। আমি ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে কয়েকবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো ঘাটে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছি না।’

আবু রায়হান জুয়েল আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু ১৪ দিনের উপর লঞ্চে অবস্থান করছি আর আমাদের মধ্যে কেউ নতুন করে যুক্ত হয়নি এবং যায়ওনি। তাছাড়া হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নিয়ম ১৪ দিন। আমরা ১৪ দিনের বেশি লঞ্চ কোয়ারেন্টিনে আছি। আমাদের ইচ্ছে ছিল, সড়ক পথে ঢাকায় ফেরার। তবে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটি আর হয়নি। অনুমতি পেলে আমরা লঞ্চে করেই ঢাকায় ফিরবো।’

আবু রায়হান জুয়েল জানান, শুটিংয়ে তাদের সঙ্গে আছেন সিয়াম, পরী, তানভীরসহ প্রায় ৫০ জনের একটি ইউনিট। সবাই নিরাপদে আছে। নিয়মিত জীবাণুনাশক দিয়ে সব কিছু পরিষ্কার করা হচ্ছে, নিয়ম করে স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোওয়া আর সেইফ থাকছে।  

উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি অনুদানে প্রখ্যাত লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবালের ‘রাতুলের রাত রাতুলের দিন’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’ছবিটি। প্রথমে চলচ্চিত্রটির নাম ছিল ‘নসু ডাকাত কুপোকাত’। পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’। এর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন।