সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে চীন

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০৩ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০১:১৩
চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। পুরোনো ছবি

চলমান করোনা সংকট মোকাবিলা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ যেকোনো বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে থাকার ব্যাপারে ফের আশ্বস্ত করেছে চীন। গতকাল সোমবার ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং স্বাক্ষরিত এক খোলা চিঠিতে এ কথা জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ‘বর্তমানে সারা বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস বিস্তৃত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সংবাদে বাংলাদেশে ৪৯ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষের নিরাপত্তার জন্যই হুমকি। ২৯ মার্চ পর্যন্ত এ ভাইরাস বিশ্বের ১৯৯টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিটি দেশই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আমরা গভীরভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

চীনের রাষ্ট্রদূত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘চীনে যখন করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি ঘটে, তখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমবেদনা জানিয়ে আমাদের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে চিঠি দিয়েছিলেন। সে সময় বাংলাদেশের সরকার ও সমাজের প্রতিনিধিরা চীনকে মেডিকেল সরঞ্জাম দিয়ে সহায়তাও দিয়েছে। বাংলাদেশে করোনামোকাবিলায় চীন ৪০ হাজার ৫০০ টেস্ট কিট, ১৫ হাজার সার্জিক্যাল মাস্ক, তিন লাখ মেডিকেল মাস্ক, ১০ হাজার গাউন ও এক হাজার থার্মোমিটার সহায়তা দিয়েছে। এ ছাড়া চীন দূতাবাস ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চীনের মেডিকেল এক্সপার্টদের সঙ্গে বাংলাদেশের মেডিকেল এক্সপার্টদের মতবিনিময়েরও ব্যবস্থা করেছে।’

ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘আমরা জানাতে চাই, এই মহামারির সময় ও মহামারি শেষেও বাংলাদেশের প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবো। করোনা প্রতিরোধে বাংলাদেশের যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্তে চীন দূতাবাস পাশে থাকবে। শুধু বাংলাদেশ নয়, করোনার এই ক্রান্তিকালে চীন এরই মাঝে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডাব্লিউএইচও) ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের ৮৯টি দেশে মেডিকেল সরঞ্জাম দিয়ে তারা সহায়তা করছে।’

চিঠিতে বলা হয়, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ আছে এবং পরিস্থিতি ভালো হলেই চীনের সহায়তায় সম্পাদিত প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশে সঙ্গে আছে চীন। এই সময়ে এবং পরবর্তীতে প্রকল্পে নিয়োজিত সব বাংলাদেশি কর্মীদের চাকরিও ঠিক থাকবে এবং পরিস্থিতি উন্নতি হলে কাজ শুরু হবে। শুধু প্রকল্প সহায়তার ক্ষেত্রে নয় বাংলাদেশের বাজার ও কারখানা সচল রেখে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট তৈরির জন্য দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও সাপ্লাই চেন ঠিক রাখার জন্য চীন সহায়তা করবে এবং চীনের বিমান কার্যক্রম পরিচালনা করবে।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এটা সবার বোঝা উচিৎ করোনাভাইরাসের প্রভাব সাময়িক। এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য চীন সরকার ও সবার সঙ্গে কাজ করবে যাতে করে এই সাময়িক সমস্যা কাটিয়ে উঠা যায় এবং দুদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হয়।’