যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণহানি লাখ পার হতে পারে, আশঙ্কা ট্রাম্পের

আমাদের সময় ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০০:১৬

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে বিশ্বজুড়ে প্রাণহানি ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা পেরিয়েছে ৭ লাখ ৩৫ হাজার। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ১ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটার্সের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত গোটা বিশ্বে প্রাণ গেছে ৮৮৪ জনের। প্রাণহানিতে বরাবরের মতোই শীর্ষে আছে ইতালি, স্পেনসহ ইউরোপের দেশগুলো। এর বাইরে আক্রান্তের দিক থেকে অনেক আগেই সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। মৃতের সংখ্যাও দেশটিতে বাড়ছে হু হু করে। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৪২ হাজার ৭৯৩ জন ও মারা গেছে ২ হাজার ৪৯০ জন। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা নিউইয়র্কে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার রাত থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত শহরে নতুন করে ১৬১ জন মারা গেছে। এর মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে তার দেশে প্রাণহানি লাখ ছাড়াতে পারে। গত রবিবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে করোনা ভাইরাস নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। ট্রাম্প বলেন, মৃতের সংখ্যা এক লাখ বা এর নিচে থাকলে সম্মিলিতভাবে করা খুব ভালো কাজ হবে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করোনা সংক্রান্ত সামাজিক নিয়মগুলো জারি থাকবে। কারণ

আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে।

এর আগে ওই দিনই সিএনএনের এক টকশোতে শীর্ষ মার্কিন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্টনি ফুচি বলেছিলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণে যুক্তরাষ্ট্রে এক লাখ বা তারও বেশি মানুষ মারা যেতে পারে। ডা. ফুচির মন্তব্যের সূত্র ধরে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড ১৯-এ সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা সম্পর্কে তিনি সবচেয়ে সঠিক ও বিশদ তদন্ত ও বিশ্লেষণ প্রতিবেদন পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘বিজয় অর্জিত হওয়ার আগেই জয় ঘোষণার চেয়ে খারাপ আর কিছু হতে পারে না। আপনারা যত ভালো করবেন, তত দ্রুত এই দুঃস্বপ্ন শেষ হবে।’

এর মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন মার্কিন জনগণের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপের অবস্থা দেখেও কেন সরকার আরও আগে করোনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করল না। কেন যথেষ্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা হলো না। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বলছে, কিছু দিন আগেও দেশে করোনা পরীক্ষার যথেষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু গত কয়েক দিনে সে সমস্যা মেটানো গেছে। যথেষ্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা এখন দেশজুড়েই আছে। সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ তৈরি। কিন্তু দেশটির গণমাধ্যমগুলো বলছে, আসলেই ট্রাম্প প্রশাসন কতটুকু তৈরি তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ তথ্য বলছে, এখনো যথেষ্ট ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা নেই অধিকাংশ হাসপাতালে। শুধু নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতালেই এই মুহূর্তে আরও ১০০টি ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা। লুইজিয়ানাতে ১২ হাজার ভেন্টিলেটরের অর্ডার করা হয়েছিল, মিলেছে মাত্র ১৯২টি। এই পরিস্থিতিতে আগামী দুই সপ্তাহে যদি আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়, তা হলে গোটা চিকিৎসা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।

এদিকে ইউরোপে মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে। গতকাল রাত ৮টা পর্যন্ত স্পেনে সর্বোচ্চ ৫৩৭, যুক্তরাজ্যে ৬২, বেলজিয়ামে ৮২, সুইজারল্যান্ডে ১২, অস্ট্রিয়ায় ২২, পর্তুগালে ২১, নরওয়েতে ৫, ডেনমার্কে ৫, রোমানিয়ায় ৫, পোল্যান্ডে ৪ জনের প্রাণ গেছে করোনার সংক্রমণে।