জনবসতিতে আগে থেকেই করোনার বাস

আমাদের সময় ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০৯:২৬

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নোভেল করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি কোথায় তা নিয়ে এখন নিবিড় গবেষণা চলছে। এক সময় ধারণা করা হয়েছিল, চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর অবৈধ বাজার থেকেই এ ভাইরাস ছড়িয়েছে। তবে চীনা গবেষকরা এ তত্ত্বের সত্যতা পাননি বলে দাবি করেছেন। আবার অনেকেই বলছেন, বাদুড় কিংবা বনরুই জাতীয় প্রাণী থেকেই নতুন এ ভাইরাসের উৎপত্তি। আবার অনেকে সামনে নিয়ে এসেছিলেন ষড়যন্ত্র তত্ত্বও।

তাদের দাবি ছিল, উহানের গবেষণাগারেই জন্ম করোনা ভাইরাসের। কর্তৃপক্ষের অসতর্কতায় তা ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু এবার এসব তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন, ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীদের একটি দল বলেছেন ভিন্ন কথা। সম্প্রতি নেচার মেডিসিনে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে তারা বলেছেন, এ ভাইরাসটি আসলে অনেক আগে থেকেই জনবসতিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে তখন তা ছিল নিরীহ গোছের। কিন্তু এখন অভিযোজনের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস শক্তিশালী হয়ে মানবগোষ্ঠীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মহামারীর সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সম্ভবত সার্স-কভ ২-এর কোনো পূর্বসূরি অভিযোজনের মাধ্যমে নতুন জিনোমিক বৈশিষ্ট্য লাভ করে নবরূপে মানব সম্প্রদায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। এর আগে সার্স-কভ ২-এর ওই পূর্বসূরি নিরীহভাবে প্রচুর পরিমাণে মানব বসতিতে ঘুরছিল। নতুন করে শক্তিপ্রাপ্ত হয়ে এ ভাইরাস মানবদেহে সংক্রমণ ঘটানোর পর অভিযোজনের মাধ্যমে একটি বড় আকারের গোষ্ঠী তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পরে যা মহামারীর রূপ নিয়েছে।

গবেষকরা সার্স-কভ-২ এবং একই গোছের করোনা ভাইরাস থেকে প্রাপ্ত জিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, নিরীহ করোনা ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনগুলোর রিসেপ্টর-বাইন্ডিং ডোমেইনের (আরবিডি) বিভাগগুলো মানুষের শরীরের কোষের সঙ্গে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। সে কারণে অভিযোজনের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া নোভেল করোনা ভাইরাসটি তার আদর্শ বাসস্থান হিসেবে মানব শরীরকে বেছে নিয়েছে।

গবেষকদের অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের স্ক্রিপস রিসার্চের ইমিউনোলজিস্ট ক্রিস্টিয়ান অ্যান্ডারসেন বলেন, ‘পরিচিত করোনা ভাইরাসের স্ট্রেনের জন্য পাওয়া জিনোম সিকোয়েন্সের তথ্যের তুলনা করে আমরা নির্ধারণ করতে পারি, সার্স-কভ-২ আসলে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উদ্ভূত হয়েছিল। ভাইরাসটির প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হলো- স্পাইক প্রোটিনের আরবিডি অংশে রূপান্তর এবং এর স্বতন্ত্র মেরুদ-। আর এতেই করোনা ভাইরাস গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে এ ধারণা বাতিল হয়ে যায়।’

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নোভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণায় গবেষক দলটি দুটি কার্যকর অনুমানের খোঁজ করেছিলেন। প্রথমটি হলো মানুষের মধ্যে এ ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার আগে এটি অন্য কোনো প্রাণীর দেহকে বাহক হিসিবে নির্বাচন করেছিল কিনা। পরে বেশি উপযোগী হওয়ায় করোনা মানবদেহকেই তার বাসস্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। আর দ্বিতীয়টি হলো- নাকি কোনো বাহক প্রাণী থেকে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে প্রাকৃতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছে। গবেষকরা বরছেন, বাদুড় এবং বনরুইয়ের শরীর থেকে সংগৃহীত ভাইরাসগুলোর নমুনাগুলোয়ও মানবদেহে সংক্রমিত করোনা ভাইরাসের মতো একই রকম জিনোম সিকোয়েন্স দেখা গেছে। তবে তাদের কোনোটি পুরোপুরি এখনো মানবদেহে ছড়ানো করোনা ভাইরাসের সঙ্গে মেলে না। খবর সায়েন্স অ্যালার্টের।