সামাজিক দূরত্ব নেই!

আহমদুল হাসান আসিক
৩১ মার্চ ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ০৮:৫০

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে সরকার ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। পুলিশ, প্রশাসনের পাশাপাশি মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু তারপরও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।

গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মূল সড়কে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। অল্পসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করছে। তবে বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে সামাজিক দূরত্ব মানছেন না সাধারণ মানুষ। তারা একসঙ্গে ঘোরাফেরা করছেন, আড্ডা দিচ্ছেন। কোনো কোনো গলিতে শিশুদের ক্রিকেট খেলতেও দেখা গেছে। কাঁচাবাজারে গিয়েও সামাজিক দূরত্ব মানছেন না ক্রেতারা। হাঁচি-কাশির শিষ্টাচারও বেমালুম ভুলে গেছেন অনেকে।

দুপুরে তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন অলিতে গলিতে সাধারণ মানুষের জটলা। নাখালপাড়া লিচুবাগান এলাকার একটি মোড়ে ৬ তরুণ আড্ডা দিচ্ছিলেন। তাদের দুজনের কাছে মাস্ক থাকলেও সেটি মুখে নয়, গলার কাছে নামিয়ে রাখা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ঘরে থাকার নির্দেশনার কথা জানেন কিনা জানতে চাইলে একজন বলেন, তারা ঘরে থাকার নির্দেশনার কথা জানেন। নাখালপাড়ায় এখনো কেউ আক্রান্ত হয়নি। তাই তারা মাঝে মধ্যে বাইরে বের হন। অধিকাংশ সময় ঘরেই থাকেন।

তেজগাঁওয়ের নাবিস্কো এলাকার একটি কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ক্রেতা ও বিক্রেতার মুখে মাস্ক রয়েছে। তবে ক্রেতারা গা-ঘেঁষাঘেঁষি করেই কেনাকাটা করছিলেন। হামিদুল ইসলাম নামের এক ক্রেতা বলেন, বাজারে এলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা যায় না। তবে তিনি চেষ্টা করছেন দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করতে।

বিকালে মহাখালী দক্ষিণপাড়া এবং নিকেতন বাজারগেট এলাকায়ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে সাধারণ মানুষের জটলা দেখা গেছে। বিশেষ করে নিকেতন বাজারগেট এলাকার মুদি দোকানগুলোর সামনে অনেক মানুষ আড্ডা দিচ্ছিলেন। বাজারগেট এলাকার বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, এ এলাকায় সারাদিনই রাস্তায় অনেক লোকজন থাকে। এখানে সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়ে কারও কোনো ধরনের মাথাব্যথা নেই।

এ বিষয়ে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) বিপ্লব বিজয় তালুকদার আমাদের সময়কে বলেন, সাধারণ মানুষ যেন ঘরের মধ্যে থাকেন এ বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তেজগাঁও বিভাগের ছয়টি থানা এলাকায় ৪৮টি প্যাট্রোল টিম সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কাজ করছে। প্রতিটি টিমের কাছে মাইক রয়েছে। মাইকিং করে তারা সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে। তবে অনেকেই বিষয়টি বুঝতে চান না। তাদেরও বুঝিয়ে ঘরে ফেরানো হচ্ছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সফিউল্লা শফি বলেন, সাধারণ মানুষ যেন রাস্তায় বের না হয় আমরা বারবার মাইকিং করে বলছি, সতর্ক করছি। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ মানছে না।