করোনা সংক্রমণের ঝুঁকিতে বেনাপোল বন্দর

বেনাপোল প্রতিনিধি
৩১ মার্চ ২০২০ ১২:২১ | আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২০ ১২:২১
ছবি : আমাদের সময়

করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার রোধে ভারত সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করায় বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য ও পাসপোর্টধারী যাত্রী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। তবে বাংলাদেশ অংশে এখন পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সচল রয়েছে বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম। সেইসঙ্গে ভারত থেকে ফিরছেন বাংলাদেশি যাত্রীরাও। এর ফলে এ পথে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, সতর্কতা হিসেবে এখনই যদি ভারতের মতো বন্দর ও ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম স্থগিত করা না হয়, তবে এর মারাত্মক খেসারত গুণতে হতে পারে।

জানতে চাইলে বন্দর ও ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বলছেন, সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় পাসপোর্ট যাত্রী প্রবেশ বা পণ্য খালাস প্রক্রিয়া সচল রাখা হয়েছে।

জানা যায়, দেশের চলমান ১১টি বন্দরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আর বেশি রাজস্ব দাতা বেনাপোল স্থলবন্দর। প্রতিদিন এ পথে ভারত থেকে প্রায় ৫ শতাধিক ট্রাকে বিভিন্ন পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রপ্তানি হয় ২শ ট্রাক পণ্য।

চীনের করোনাভাইরাসে আজ বিশ্বের অনান্য দেশের মতো সংক্রমণের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশ ভারতও। দিন দিন অবস্থা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এ কারণে করোনা সংক্রমণের বিস্তার রোধে ইতিমধ্যে ভারত সরকার গত ১৩ মার্চ থেকে বাংলাদেশিসহ বিদেশিদের ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

পরে গত ১৫ মার্চ দুই দেশের মধ্যে বাস, রেল ও বিমানে যাত্রী যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। আর ২৩ মার্চ বন্ধ করে এ পথে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য। সর্বশেষ ২৪ মার্চ নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয়দের দেশে ফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

তবে সতর্কতা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য বা পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ জারি করা হয়নি। ফলে এখনো সচল রয়েছে ভারত থেকে পাসপোর্ট যাত্রীদের ফেরত আসা এবং ঝুঁকি নিয়ে বন্দরে আমদানি পণ্য খালাস কার্যক্রম। এতে সবাই আছে আতঙ্কের মধ্যে।

বন্দরবাসী আলী আশরাফসহ কয়েকজন বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ সংক্রমণ বিস্তার রোধে আমদানি, রপ্তানি বাণিজ্য, পাসপোর্টযাত্রী পারাপার বন্ধ ছাড়াও লকডাউন করেছেন। তাই সংক্রমণ এড়াতে বেনাপোল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ও পাসপোর্টধারী যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। তা না হলে বড় খেসারত আমাদের গুণতে হবে।’

বন্দরের শ্রমিক ও নিরাপত্তা কর্মী আনসার সদস্য বলেন, বন্দরের ডাকে এখনো তারা ঝুঁকির মধ্যে পণ্য খালাস ও নিরাপত্তার কাজ করছেন। বন্দর, কাস্টমস বা ব্যবসায়ী কেউ তাদের মাস্ক বা নিরাপদ সামগ্রী দেয়নি। আর এত দাম দিয়ে এসব কেনা শ্রমিকদের পক্ষে সম্ভব নয়। এতে তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

এ ব্যাপারে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের মেডিকেল অফিসার আব্দুল্লা আল মামুন বলেন, যারা চিকিৎসা, ব্যবসা ও বেড়ানোর কাজে ভারতে গিয়েছিলেন সেখান থেকে প্রতিদিন তারা ফিরছেন। যারা ফিরছেন তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীর সংখ্যা পূর্বের চেয়ে কম।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আহসান হাবিব বলেন, ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে যাওয়া বন্ধ আছে। ভারত থেকেও আসছে না ভারতীয়রা। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এখন পর্যন্ত ভারত থেকে স্বাভাবিকভাবে ফেরত আসছেন সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা।

বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) মামুন তরফদার বলেন, ভারত সরকারের লকডাউনে এ পথে আমদানি, রপ্তানি বন্ধ আছে। তবে কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় বেনাপোল বন্দর এখনো খোলা আছে। ব্যবসায়ীরা কেউ পণ্য খালাস নিলে দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে গত ১৭ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ভারত ফেরত ২ লাখ ১০ হাজারের মতো যাত্রী ও ভারতীয় ট্রাক চালককে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে যাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে, তারা সবাই ছিলেন করোনামুক্ত।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ ও স্বাস্থ্যকর্মীরা যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কাজ করছেন। সব শেষ গত ২৮ মার্চ বেনাপোল বন্দরে ৪৮ ট্রাক পণ্য শ্রমিকদের মাধ্যমে খালাস হয়েছে।