করোনা সংক্রমণে চোখের যত্ন

ডা. মো. ছায়েদুল হক
১ এপ্রিল ২০২০ ০১:১৩ | আপডেট: ১ এপ্রিল ২০২০ ০৭:৩৯

সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে হাঁচি-কাশির শ্লেষ্মার সঙ্গে ভাইরাসের জীবাণু ছড়ায়। সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সঙ্গে নির্গত শ্লেষ্মার কণা সুস্থ কারও নাকে মুখে স্পর্শ করলে সেখান থেকে নিঃশ্বাসের সঙ্গে ভাইরাসটি সুস্থ লোকের দেহের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার সূযোগ পায়। এই সুযোগে দেহাভ্যন্তরে পৌঁছে শ্বাসনালিতে ভাইরাসটি সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকে এবং সংখ্যা বৃদ্ধির একপর্যায়ে ব্যক্তিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাঁচি-কাশির শ্লেষ্মা ও নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস বা অন্যান্য রোগজীবাণু ছড়ানোর এই পদ্ধতিকে বলা হয় ড্রপলেট ইনফেকশন।

অন্যান্য অনেক ভাইরাসের মতো করোনা ভাইরাসও সীমিত পরিমাণে স্বল্পসময়ের জন্য হয়তো বাতাসে ভেসে বেড়ায় এবং সময় সুযোগ পেলে মানবদেহে প্রবেশ করে সংক্রমিত করে থাকে। বাতাসের মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো ভাইরাসের অনুরূপ সংক্রমণের পদ্ধতিকে বলা হয় এরোসল সংক্রমণ। মনে করা হয় সীমিত পরিমাণে হলেও ভাইরাসের এরোসল পদ্ধতির সংক্রমণটি করোনা ভাইরাসের বেলায় সক্রিয়।

ইতোমধ্যে কয়েকটি করোনা সংক্রমিত রোগীর চোখে কনজাংটিভাইটিসের মতো উপসর্গ শনাক্ত করা হয়েছে, যদিও এটি অন্যান্য ভাইরাল কনজাংটিভাইটিস থেকে আলাদা করা সম্ভব নয়। এটির গুরুত্ব হলো- ভাইরাসটি চোখকে সংক্রমিত করে এবং চোখের জল বা টিয়ারে ভাইরাসের অস্তিত্ব প্রমাণিত। অর্থাৎ চোখের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়টি আমলে নিতে হবে। সংক্রমণ এড়াতে চোখের যতœ নিতে হবে। অর্থাৎ প্রোটেকশনের জন্য চোখ ঢেকে রাখতে হবে এবং চোখে স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে চোখ স্পর্শ করতে হবে।

চোখের ব্যাপারে যে বিষয়টি অধিকতর মনোযোগের কেন্দ্রে সেটি হলো সম্ভাব্য চিকিৎসার ওষুধ, যা ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে এবং অনেকেই এটি করোনা চিকিৎসায় ব্যবহার করছেন। এটি হলো ক্লোরোকুইন বা হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। ওষুধটি রিউমেটিক ফিবার ও এসএলই এ দুটি কোলাজেন ডিজিজ বা অসুস্থতায় বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহার করতে হয়।

তবে এটি সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন নয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারে এটি চোখের স্নায়ুকে নষ্ট করে দিতে পারে। এই বিশেষ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াটিকে বলা হয় মেকুলোপ্যাথি। এতে স্থায়ী অন্ধত্বের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এ ওষুধটি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহার করা হয়ে থাকে। স্বল্পমেয়াদে নিরাপদ মাত্রা কত এ ব্যাপারে এখনো যথেষ্ট গবেষণা নেই। তাই এ ক্ষেত্রে চিকিৎসককে নিজের বিবেচনা থেকে এর ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে আগে থেকেই কেউ এ ওষুধগুলো ব্যবহার করে থাকলে এবং চোখে স্নায়ুর সমস্যা বা মেকুলোপ্যাথী থাকলে অবশ্যই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞ হিসেবে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে- রোগীর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট আছে কিনা জেনে নিতে হবে। রোগীর ভ্রমণবৃত্তান্ত ও কন্টাক্টের বিস্তারিত জানতে হবে।

রোগীর কোনো জ্বর বা শ্বাসকষ্ট না থাকলে তেমন একটা সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে সিøটল্যাম্প এক্সামিন্যাশনের সময় রোগীকে হাঁচি-কাশি ও কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আর যদি শ্বাসকষ্ট থাকে এবং জ্বর না থাকে, তবে প্রোটেকশন নিয়ে রোগীর পরীক্ষা করতে হবে।

ইমারজেন্সি না হলে রোগীকে পরবর্তী সময় যোগাযোগ করার অনুরোধ করতে হবে। জরুরি হলে বিশেষ ব্যবস্থা যেমন রোগীকে মাস্ক পরতে হবে; চিকিৎসককে মাস্ক, গ্লাভস, গাউন ইত্যাদি পরতে হবে। নিয়মিত ইন্সট্রুমেন্ট ও এক্সামিন্যাশন রুম জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমএস (চক্ষু)
চক্ষুবিশেষজ্ঞ ও সার্জন
সহযোগী অধ্যাপক (অব)/ কনসালট্যান্ট
আইডিয়াল আই কেয়ার সেন্টার
৩৮/৩-৪, রিং রোড, শ্যামলী, আদাবর, ঢাকা।