দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে

৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ০০:৩৬

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে দেশে দেশে ঘোষিত হয়েছে লকডাউন। শেষ পর্যন্ত ঢাকায়ও গত রবিবার থেকে প্রবেশ ও বের হওয়া বন্ধ করা হয়েছে। মূলত গত শনিবার গার্মেন্টস কারখানা খোলার খবরে সারাদেশ থেকে রাজধানী অভিমুখে শ্রমজীবী মানুষের ঢল নামে। গণমাধ্যমে যখন এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, তখন রাত পৌনে ১১টায় বিজিএমইএর চেয়ারম্যান রুবানা হক সরকারি ছুটির সঙ্গে মিল রেখে কারখানা বন্ধ রাখতে অনুরোধ জানান। এ সময়ের মধ্যে যা হওয়ার তা হয়ে গেছে, অর্থাৎ লাখখানেক শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেছেন এবং এখন আবার কারখানা বন্ধ থাকার ঘটনায় তারা আবার ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার সব সিদ্ধান্তই নিচ্ছে; কিন্তু একটা লেজেগোবরে অবস্থা করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। অর্থাৎ পরিকল্পনা নেই।

কোভিড-১৯ থেকে বাঁচতে মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শ আটকানো ছাড়া অন্য উপায়ই নেই। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে তাকাই, প্রাচ্যের দেশগুলো থেকে যাতে প্লেগ রোগ ইউরোপে না ছড়ায়, সে জন্য জলজাহাজের যাতায়াতে কড়াকড়ি চলত সেকালে। প্রয়োজনে জাহাজকেও ‘কোয়ারেন্টিন’-এ রাখা হতো। তবে সাধারণ মানুষকে ঘরে রাখতে হলে প্রথমেই ভাবতে হবে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কথা। তাদের পাশে সরকার ও বিত্তবানদের দাঁড়াতে হবে। ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার নিরাপত্তা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ১৭ কোটির এই দেশে আক্রান্তদের সুষ্ঠু সেবা দেওয়ারও উপযুক্ত ব্যবস্থা আগেই নিতে হবে। আমাদের প্রস্তুতির এখনো অনেক সমন্বয়হীনতা আছে, যা অবিলম্বে কাটিয়ে উঠতে হবে। ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দূর করতে আইসোলেশনে রাখার মতো যথেষ্ট সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে। রোগীদের দ্বারা স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে আক্রান্ত না হন, সেটা দেখতে হবে। আইসিউ রেডি রাখা এবং যথেষ্ট ভেন্টিলেটর মজুদ রাখা এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।