‘শর্ত দিয়ে কাজে আনব না, প্রয়োজনে বাইরে থেকে ডাক্তার নিয়ে আসব’

নিজস্ব প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল ২০২০ ১১:২৩ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২০ ১৫:৪৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরোনো ছবি

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শর্ত দিয়ে কাউকে কাজ আনবেন না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেইসঙ্গে করোনা রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োজনে বাইরে থেকে ডাক্তার নিয়ে আসার কথাও জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুরুতেই করোনায় ঝুঁকি নিয়ে যারা কাজ করছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় যারা নিজের জীবনের সুরক্ষায় পালিয়ে গেছেন তারা কোনো প্রণোদনা পাবেন না বলেও জানান তিনি।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে যে এটা দিলে আমরা আসবো, তাহলে আমি বলবো যে সেটা দিতে হলে আগামীতে কীভাবে কাজ করেন, এই যে দুঃসময়টা যে যাবে, আমরা অবজারভেশনে রাখবো অন্তত এই ৩ মাস তাদের কাজ দেখবো-সেখানে দেখবো যদি কেউ সত্যি ওইভাবে মানুষের সেবা দেন তার পরে আমরা তাদের কথা চিন্তা করবো।’

‘কিন্তু শর্ত দিয়ে কাউকে আমরা কাজে আনবো না’-উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের মধ্যে এই মানবতাবোধটুকু নেই তাদেরকে প্রণোদনা দিয়ে কাজে আনার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে আমি মনে করি না। যদি বাংলাদেশে সেরকম দুর্দিন আসে, প্রয়োজনে বাইরে থেকে আমরা ডাক্তার নিয়ে আসবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ধরনের দুর্বল মানসিকতা দিয়ে আমার কাজ হবে না। কাজেই তারা মিটিং করুক আর শর্ত দিক ওই শর্তে আমার কোনো কিছু আসে না। বরং ভবিষ্যতে তারা চাকরি করতে পারবে কিনা সেটাই চিন্তা করতে হবে।’

‘ডাক্তার আমাদের প্রয়োজন আছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই মানসিকতা থাকবে কেন? মানবতাবোধ হারাবে কেন?’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়। এরপর দিন দিন সংক্রমণ বেড়েছে। এই ভাইরাসে গতকাল সোমবার পর্যন্ত সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৩ জনে। এ ছাড়া করোনায় মৃত্যু হয়েছে মোট ১২ জনের।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। পরে এ ছুটি ক্রমান্বয়ে ১১ এপ্রিলের পর ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়।