সিনেমা হল খুলতে মালিকদের গোপন বৈঠক

বিনোদন প্রতিবেদক
১৮ মে ২০২০ ১৮:১৬ | আপডেট: ১৮ মে ২০২০ ১৮:২৩
মধুমিতা সিনেমা হল। পুরোনো ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারের স্বস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সব ধরনের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এমনকি বিনোদনের প্রধান মাধ্যম সিনেমাপাড়াতে অভিনয় বন্ধ। বন্ধ সিনেমা হলও। প্রদর্শক সমিতির সেই বন্ধের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা বাংলাদেশের হল মালিকরা তাদের হলগুলো বন্ধ রেখেছেন। অপরদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন প্রশাসক আব্দুল আউয়াল গোপন বৈঠক করেছেন তিন হল মালিকসহ ভাড়া হল মালিক ও এজেন্টদের সঙ্গে।

জানা গেছে, রোববার বিকেলে মধুমিতা সিনেমা হলে এই বৈঠকে বসেন তারা। সেই বৈঠকে মধুমিতার কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, আতিকুর রহমান লিটন, সিরাজুল ইসলাম বাদল (বর্ষা), পাপ্পু (নন্দিতা হলের ভাড়া মালিক), আলীক আকবর (মনিহারের ভাড়া মালিক), কালাম (এশিয়ার ভাড়া মালিক), মুবিন (চিত্রমহলের ভাড়া হল মালিক), আলীম সরদার (বুকিং এজন্ট), শহীদুল হক মাস্টার (বুকিং এজেন্ট) এবং অজিৎ নন্দী (ভাড়া হল মালিক) উপস্থিত ছিলেন।

এতে করে সমিতি এবং নতুন প্রশাসক মুখোমুখি অবস্থানে বলে গুঞ্জন উঠেছে। একইসঙ্গে আলোচনা হচ্ছে নতুন প্রশাসকের মাত্র তিনজন হল মালিককে সঙ্গে বৈঠক নিয়ে। যদিও ওই হল মালিকদের বক্তব্য ভাড়া হল মালিক হলেও তারা ভোটাধিকার ক্ষমতা রাখেন বলেই বৈঠকে এসেছেন। তবে প্রদর্শক সমিতি বলছে, ওই বৈঠকে তিনজন প্রকৃত হল মালিক ছাড়া বাকিদের ভোটাধিকার ক্ষমতা নেই।

জানা গেছে, গত বছরে অনুষ্ঠিত প্রদর্শক সমিতির নির্বাচন শুরু থেকেই বিরোধিতা করেছেন সাবেক সভাপতি ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ। তার বিরুদ্ধে অপর হল মালিকদের অভিযোগ, তিনি পদ আঁকড়ে ধরে রাখতে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিয়ে দুই বছর আট মাস অতিরিক্ত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রায় পুরাটা সময় সেন্সরবোর্ডের মেম্বার হিসেবেও কাজ করেন। তিনি পুনরায় সভাপতি পদে থাকতে চাইলে বিপত্তি দেখা দেয় গঠনতন্ত্র নিয়ে। এতে দুই মেয়াদের বেশি কেউ সম্পাদকীয় পদে থাকতে পারবেন না। ফলে কমিশন নতুন নির্বাচনের সময় বেঁধে দেন। পরবর্তীতে সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচিত হয়। এতে আপত্তি জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন আতিকুর রহমান লিটন নামে এক হল মালিক। তার চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখার জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয়।

এ ব্যাপারে প্রদর্শক সমিতির প্রশাসক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসিচব আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘আমি মূলত নিয়োগ পেয়েছি হল মালিক সমিতির জন্য একটা সুষ্ঠ নির্বাচন দেওয়ার জন্য। এ জন্যই মিটিং করেছিলাম তাদের সঙ্গে। বলেছি একটা অফিস দেন আমি সবকিছু আপডেট করে নির্বাচন দেই। তারা এ ব্যাপারে ভেবে দেখবে। আরেকটা বিষয় যা বলছিলেন সে মিটিংয়ে তিনজন প্রকৃত হল মালিক ছাড়া বাকিরা ভাড়া হল মালিক ও বুকিং এজেন্ট? আসলে এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না বা জানার কথাও না। এ ব্যাপারটা অবশ্যই আমি খোঁজ নেব।’

প্রশাসকের বৈঠক নিয়ে প্রদর্শক সমিতির বর্তমান সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ বলেন, ‘আমি শুনেছি তিনি খুবই বিচক্ষণ ব্যক্তি। তার প্রতি আমার সংগঠনের আস্থা রয়েছে। তিনি বৈঠক করতেই পারেন। তবে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে আর ৬ মাস আগে থেকেই ২নং কলাবাগান, সুলতানা টাওয়ারের টপ ফোরে সমিতির অফিসের কার্যক্রম চলছে। তাই তার কাছে প্রত্যাশা থাকবে ভবিষ্যতে এ ঠিকানায় চাইলে তিনি যোগাযোগ করতে পারবেন।’

বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ এবং আতিকুর রহমান লিটন পুরানো ছবি চালিয়ে হল খোলার পক্ষে মত ব্যক্ত করেন, যদিও প্রশাসক এ ব্যাপারে কোনো আশ্বাস দেন নি।

সিনেমা হল খোলা হবে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে প্রদর্শক সমিতির সাফ জবাব, সরকারের নির্দেশিত পথেই তারা হাঁটবে। সরকারি নির্দেশ ছাড়া হল খুলে মানুষের মৃত্যুর কারণ হওয়া যাবে না।