দায়িত্ব পালনেই আনন্দ করোনা জয়ীদের

আহমেদুল হক আসিক
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০০:৪৫

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক কনস্টেবল একেএম হারুন অর রশীদ খান (৪৪)। মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। চিকিৎসায় আরোগ্য লাভের পর তার ইচ্ছে ছিল গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একসঙ্গে ঈদ উদযাপন করবেন। কিন্তু পেশাগত কর্তব্যের কারণে সেই ইচ্ছে বিসর্জন দিয়েছেন। এখন তিনি কাজে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; সহকর্মীদের সঙ্গেই ঢাকায় ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন। গতকাল বৃহস্পতিবার আমাদের সময়ের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান হারুন অর রশীদ। শুধু তিনিই নন, করোনাজয়ী অনেক পুলিশ সদস্যই পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের পরিবর্তে ঈদের দিন কর্মস্থলেই দায়িত্ব পালন করবেন।
করোনায় আক্রান্ত হওয়া প্রসঙ্গে হারুন অর রশীদ জানান, জ্বর ও কাশি হওয়ার পর নমুনা পরীক্ষায় আমার করোনা ধরা পড়ে। এর পর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে ভর্তি হই। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট পেয়ে আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। তখন মনে হচ্ছিল, আমি মনে হয় আর বাঁচব না। তখন বারবার আমার তিন সন্তান ও স্ত্রীর কথা মনে পড়ছিল। ওরা থাকে গ্রামের বাড়ি জামালপুরে। ওদের খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল। তখন মনে মনে ভাবছিলাম, বেঁচে ফিরলে গ্রামের বাড়ি যাব। করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরাও
আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছিল। গত ১৫ মে আমি যখন করোনামুক্ত হওয়ার বিষয়টি স্ত্রী-সন্তানদের জানাই, তারা আনন্দে কেঁদে ফেলে। সন্তানরা গ্রামে ফেরার বায়না ধরে। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছি। এখন আমি গ্রামের বাড়ি নয়, কাজে যোগদানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। কারণ এখন দেশের ক্রান্তিকাল চলছে। আল্লাহ আমাকে দ্বিতীয় জীবন দান করেছেন। যতদিন বাঁচব দেশের জন্য কাজ করে যাব। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমি স্বজনদের কাছে ফিরব।
হারুন অর রশীদ জানান, তিনি রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের ট্রাফিক ব্যারাকে থাকেন। তার শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর ২৫ এপ্রিল তিনি পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ২৯ এপ্রিল জানতে পারেন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। ১৫ মে

নমুনা পরীক্ষার পর জানতে পারেন, তিনি করোনামুক্ত হয়েছেন। এর দুদিন পর তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
এদিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) গাছা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আশরাফ উল ইসলাম করোনামুক্ত হয়ে তিনদিন আগে ফের কাজে যোগ দিয়েছেন। তিনি জানান, তার শরীরে করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। গাছা থানার এক এসআইয়ের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সবার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট আসার পর জানা গেল তিনিসহ থানার ৩৪ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। টানা ২০ দিন তিনি আইসোলেশনে থাকার পর করোনামুক্ত হন। তিন দিন আগে তিনি আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন। তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় থাকলেও এবার স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করা হবে না। কর্তব্য পালনের তাগিদেই তিনি কর্মস্থলে ঈদ উদযাপন করবেন।
আশরাফ উল ইসলাম বলেন, গত ১৪ এপ্রিল পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। ১৬ এপ্রিল তিনি জানতে পারেন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তার পর টানা ২০ দিন আইসোলেশনে ছিলেন তিনি। পর পর দুবার পরীক্ষার পর করোনামুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হন।