করোনার পরে যেভাবে ফিরবে ক্রিকেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৪০

করোনা ভাইরাস সহজে বিদায় নেবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন) পুরো বিশ্বের মানুষকে ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পূর্বে সতর্ক থেকে চলাচল করতে পরামর্শ দিয়েছে। করোনার সাথে যুদ্ধ মনে হতে পারে সাধারণ। সামাজিক দূরত্ব মেনে লড়াই করতে হবে। খেলাধুলায় ব্যাপারটি বেশ জটিল ও কঠিন। মার্চ থেকে খেলা বন্ধ রয়েছে। পেশাদার লিগ অবশ্য জার্মানিতে চালু হয়েছে। তবে একেক দেশের অবকাঠামো একেক রকম। জার্মানি মেডিক্যাল সায়েন্স বেশ উন্নত। ফুটবল ধীরে ধীরে ইউরোপে শুরু হবে। ক্রিকেটেও ফেরার কথা চলছে। তবে করোনা পরিস্থিতির একেবারে স্বাভাবিক সহজে হচ্ছে না। এটা মাথায় রেখেই ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি রূপরেখা তৈরি করবে। তবে একেক দেশ এই করোনা মহামারীতে তাদের অবকাঠামো অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে। একবারে ক্রিকেট চালু করা কঠিন হবে। আর ট্যুর বা আন্তর্জাতিক কোনো সফর করার আগে বেশ কিছু ব্যবস্থা রাখা হবে।

শ্রীলংকা ও অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট বিশ্বে অন্যতম দেশ। শ্রীলংকায় করোনা সেভাবে জেঁকে বসতে পারেনি। শ্রীলংকা আশা করছে সবাই সফর করতে পারে সে দেশে। তবে আরেক দেশ থেকে আসা দলটিকে কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এটা বড় সমস্যা। আবার অস্ট্রেলিয়ায় তো বর্ডার লকডাউন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। একটি রূপরেখা করার আগে ভাবতে হবে সে দেশের লোকসংখ্যা ও করোনার বিপক্ষে লড়াইয়ের সামর্থ্য নিয়ে। যদিও অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, তারা সফরকারী দলের জন্য অপেক্ষা করছে। নিউজিল্যান্ডে লোকসংখ্যা ৫০ লাখো হবে না। তারা করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ফেলেছে অনেক আগে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ বোর্ডটি ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে। সেখানেও করোনার প্রকোপ সেভাবে হানা দেয়নি। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ডে পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না।

প্রথম ধাপে ক্রিকেটারদের করোনা পরীক্ষা দিতে হবে। বাংলাদেশে এটা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ১৪ দিনে দুইবার এই পরীক্ষা প্রাথমিকভাবে জরুরি। এর পর ফিটনেস পরীক্ষা রয়েছে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দি সবাই। তার আগে স্টেডিয়াম গেটে করোনা চেম্বার বসাতে হবে। বহিরাগতদের স্যানিটাইজার দিয়ে জীবাণু নাশ করার ব্যবস্থা করতে হবে। ক্রিকেট বলের ব্যাপারে আইসিসি পরামর্শ দিয়েছে। থুথু ও লালা লাগানো যাবে না। জিমনেশিয়ামে একত্রে বসা নিষিদ্ধ হবে। মাঠে যতটা পারা যায় দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। ক্রিকেট আবার ফুটবলের মতো বডিকানেক্ট খেলা নয়। ফলে ক্রিকেট ফিরতে পারে সহজেই। তবে কিছু নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। হাত মেলানো বা কোলাকুলি (জেন্টাল হাগ) নিষেধ হয়েছে। সাইডলাইনে খেলোয়াড়দের দূরত্ব মেনে থাকতে হবে। বল স্যানিটাইজার লাগানো যাবে কিনা সেটা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। কাঠের বল যেহেতু। ফুটবলে অবশ্য স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। আম্পায়ার মাস্ক ব্যবহার করবেন। তবে খেলোয়াড়দের দরকার হবে না।

মূল সমস্যা হচ্ছে, গ্যালারিতে আপাতত দর্শক যেতে পারবেন না। তারা যেতে পারবেন পরে। এমনো হতে পারে একেক স্ট্যান্ডে ৫০ জনকে প্রবেশ করানো হতে পারে চেক (থার্মাল স্ক্যানার) করে। তারা দূরত্ব মেনে বসবেন। এটা অবশ্য এই বছরে হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। ক্রিকেট টেলিভিশন বা অনলাইনে দেখতে পারেন সমর্থকরা।

অতিথি দলের জন্য বেশ নিয়মকানুন রয়েছে। তারা হেলথ সার্টিফিকেট নিয়ে আসবেন। আর যে দেশে যাবেন সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গাইডলাইন তৈরি করে দেবেন। কীভাবে তারা মাঠ, হোটেল, ট্রেনিং গ্রাউন্ডে নিজেদের মেইনটেইন করবে। তার পরও ফেরা নিয়ে সবাই ভাবছে। যতটা নিরাপত্তা বজায় রাখা, ততই মঙ্গল ক্রিকেটার বা খেলোয়াড়দের জন্য।