কয়রায় ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে চার লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক খুলনা
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৪৩

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ল-ভ- হয়ে গেছে খুলনার বিস্তীর্ণ জনপদ। সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ৩০ কিলোমিটার বাঁধ। বিধ্বস্ত হয়েছে সাড়ে ৮২ হাজার ঘরবাড়ি-দোকানপাট। ক্ষতির শিকার হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ।

উল্লেখ্য, খুলনা উপকূলে বুধবার সন্ধ্যার পরে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। প্রায় রাতভর চলে তা-ব। দমকা ও ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেছে বাড়ি ঘরের চালা, উপড়ে গেছে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি। আম্পানে সৃষ্টি জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলা। বেড়িবাঁধ ভেঙে ৩টি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে লবণ পানিতে ডুবে গেছে। ২টি ইউনিয়ন আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড খুলনা ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী জানান, সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে খুলনায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। বিধ্বস্ত হওয়া বাঁধের পুরোটাই কয়রা উপজেলায়। এ ছাড়া দাকোপ, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলায় অন্তত ৩০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, কয়রা উপজেলার ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের মধ্যে দক্ষিণ বেদকাশি ইউনিয়নের ছোট আংটিহারা বাকেরগাজীর বাড়ির পাশে শাকবাড়িয়া নদীর প্রায় ১২০ গজ বেড়িবাঁধ, আংটিহারা মজিদ গাজীর পাশে ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, জোড়শিং বাজারের পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, কপোতাক্ষ নদের চোরামুখা খেয়াঘাটের কাছে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, গোলখালী তসলিম মোল্লার বাড়ির পাশে ৫০০ গজ বেড়িবাঁধ, উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাজীপাড়া গ্রামের মাথায় কপোতাক্ষ নদের ৬০০ গজ বেড়িবাঁধ, কাটকাটা বাজারের শাকবাড়ীয়া নদীর ৩০০ গজ বেড়িবাঁধ, মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের ৭০০ গজ বেড়িবাঁধ, কয়রা সদর ইউনিয়নের হরিণখোলা ও গোবরা ঘাটাখালী গ্রামে কপোতাক্ষ নদের আধা কিলোমিটার এলাকাসহ ১০টি জায়গার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের কয়রা নদীর পানি পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাঁধ উপচে লবণ পানি প্রবেশ করেছে লোকালয়ে।

এ ছাড়া দাকোপের বেড়িবাঁধের অধিকাংশ এলাকায় দুই পাশের পানির চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া, সুরখালী, বারোভূঁইয়া, শিয়ালীডাঙ্গা, কোঁদলা এলাকার অধিকাংশ স্থানের বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু জানিয়েছেন, খুলনার মধ্যে কয়রা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ঘরবাড়ি। প্রায় ১০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে লবণ পানি প্রবেশ করেছে। ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর মৎস্য ঘেরের।