তসলিমাদের থাকার মতো কিছুই নেই

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৪৩

পানিতে মোর সবকিছুই নিয়ে গেছে। কোনো রকম বেঁচে আছি। এহন মোর থাকার মতো কিছুই নেই। কথাগুলো পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার সাঈদখালী গ্রামের দিনমজুর খলিলের স্ত্রী তাসলিমা বেগমের। সুপার সাইক্লোন আম্পানে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে নিয়ে গেছে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা ঘর।

শুধু তাসলিমার নয়, বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা পাশাপাশি শহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও শাহজাহানের ঘরও পানিতে ভেসে গেছে। শুধু ঘরের কাঠামোটা হেলে দাঁড়িয়ে আছে। আরও বেঁচে আছেন এই মানুষগুলো। ঘরের কিছুই অবশিষ্ট নেই।

গতকাল শুক্রবার কচা নদীর তীরে সাঈদখালী, কালাইয়া, টগড়া ও খোলপটুয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আম্পানে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে কচানদীর চলতি বছর নির্মিত বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। টগড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ায় কমপক্ষে ২৫টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। ভেসে গেছে ঘরের মালামাল। জলোচ্ছ্বাস দেখে ঘরের লোকজন দৌড়ে আশ্রয় নেন টগড়া ইন্দুরকানী সড়কে।

কচা নদীর তীরবর্তী টগড়া গ্রামের ছিদ্দিকুর রহমান হাওলাদার বলেন, আমরা বেড়িবাঁধের মধ্যে ছিলাম। হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানি ঢুকে আমাদের বাড়িঘর ধুয়ে নিয়ে যায়। এখন জোয়ার এলেই পানি ঢুকে নদীর তীরের বাড়িগুলো পানিতে ভাসতে থাকে। আমাদের বাড়িতে থাকতে হলে শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ দরকার।

টগড়া গ্রামের প্রায় দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং সাঈদখালী, খোলপটুয়া, কলারণ ও কালাইয়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এলাকার মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। আম্পানের প্রভাবে এ উপজেলার সাঈদখালী গুচ্ছগ্রাম ও চাড়াখালী গুচ্ছগ্রামসহ ৫ শতাধিক ঘর কমবেশি বিধ্বস্ত হয়েছে।

কচানদীর তীরবর্তী টগড়া ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, টগড়া গ্রামের কচানদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধ সঠিকভাবে না করায় পানির তোড়ে বিলীন হয়ে গেছে। এত ওই গ্রামের বাড়িঘরের বেশি ক্ষতি হয়েছে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য এ উপজেলায় ২০ টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এগুলো গতকালই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল মুজাহিদ জানান, আম্পানের তা-বে এ উপজেলায় চার শতাধিক বাড়িঘর কমবেশি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিভিন্ন পয়েন্টে কচা নদীর বেড়ি বাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধ দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ২০ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাই সহায়তা পাবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।