জনগণের বন্ধু বগুড়ার পুলিশ

প্রদীপ মোহন্ত বগুড়া
২৩ মে ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ২২ মে ২০২০ ২৩:৪৩

বগুড়ায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে পুলিশের নানা পদক্ষেপ মানুষের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে তারা প্রকৃত অর্থেই তারা জনগণের বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা ভারইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর পর থেকে পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি মানুষের কল্যাণে কাজ করে চলেছে।

করোনা সন্দেহে প্রতিবেশীরা যখন মৃত ব্যক্তির দাফনে অংশ নিচ্ছেন না, তখন পুলিশ নিজেই কবর খোঁড়া থেকে শুরু করে দাফনের কাজ করে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এ ছাড়া কালোবাজারে বিক্রির জন্য মজুদ রাখা প্রায় ১০ হাজার কেজি ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল উদ্ধার করে আদালতের অনুমতি নিয়ে ১১০০ গরিব, দুঃখী ও কর্মহীন পরিবারের মাঝে বিলি করেছে বগুড়া পুলিশ। করোনার দুর্যোগকালে বিদেশ ফেরত এবং ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত প্রায় চার হাজার ১০০ মানুষের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করেছে। সেই সময় ফোন পেয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা শতাধিক পরিবারের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, লকডাউনের সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় রাতে প্রসূতিদের শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার মতো মানবিক কাজগুলোও করছে। এসব কাজ করতে গিয়ে গত ১৬ মে পর্যন্ত বগুড়ায় প্রায় দুই পুলিশ কর্মকর্তা, দুই নারী পুলিশসহ মোট ২১ পুলিশ সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বগুড়া জেলায় পুলিশের এই মানবিক কাজগুলো করার নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বিপিএম (বার)।

নিজেদের আয় থেকে টাকা বাঁচিয়ে সেই টাকায় অসহায় দুস্থ ১২০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে বগুড়ার পুলিশ। এ ছাড়া বিতরণ করেছে ১২ হাজার মাস্ক ও ১০ হাজার হ্যান্ড স্যানিটাইজার। পুলিশ সুপার নিজেই বিভিন্ন থানায় গিয়ে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম তদারকি করেন।

শুধু তা-ই নয়, করোনার বিরুদ্ধে ঘরে থেকে যুদ্ধে সেøাগান নিয়ে জেলা পুলিশ বগুড়া জনগণকে ঘরে থাকতে উদ্বুদ্ধ করার জন্য অনলাইনে স্ক্রিপ্ট রাইটিং রচনা, চিত্রাঙ্কন এবং গান কবিতা আবৃত্তির ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্টা ইউনিয়নের মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে প্রথম গত ২৮ মার্চ (শনিবার) করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি মারা যান। তার দাফনে নানা বিপত্তি দেখা দেয়। পরে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ নিজেরাই কবর খুঁড়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন করেন। প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে আসেননি। তার পরেই জেলা পুলিশের উদ্যোগে ৫০ জন পুলিশ সদস্যের সমন্বয়ে স্পেশাল টিম গঠন করা হয়। স্পেশাল টিমের সদস্যরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ মৃত্যুবরণ করলে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী তাদের সৎকার করছেন। সর্বোপরি এই টিম আক্রান্ত ব্যক্তি ও তার পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা ছাড়াও দেশের যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে জনগণের পাশে থাকে। এবারের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বগুড়ার পুলিশ জনগণের মধ্য সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মানবিক কাজগুলো করে যাচ্ছে।