প্রিয়জনের সুস্থ হলেই তাদের ঈদ আনন্দ

২৩ মে ২০২০ ০০:৪৭
আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ০০:৪৭

জ্বর ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন একটি শীর্ষ দৈনিকের একজন সাংবাদিক। এর কদিন পর স্ত্রীসহ তিনি করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করাতে দেন। পরদিন স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ফোন করে জানানো হয়, স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই করোনা পজিটিভ। পেশাগত প্রতিকূলতায় যেমন অটুট মনোবল তার, এ খবরেও তেমনই মনোবল হারাননি তিনি। পরীক্ষার রিপোর্ট তাদের হাতে পৌঁছতে পৌঁছতে বাসার অন্যদের মধ্যেও করোনার উপসর্গ প্রকাশ পেতে শুরু করে। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসায় ওই সাংবাদিকসহ তার পরিবারের সবাই এখন অনেকটাই সুস্থ। আসছে ঈদে তাদের একটাই চাওয়াÑ পরিবারের সবার সুস্থতা। এতেই তাদের ঈদের পরম আনন্দ। আক্রান্ত সাংবাদিকের বড় ভাই বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আসগর আলী আমাদের সময়কে বলেন, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। সবাই সুস্থ থাকলেই খুশি আমরা।
শুধু এ পরিবারটির কাছেই নয়, অনেক পরিবারেই আসন্ন ঈদে আনন্দ হয়ে ধরা দেবে নভেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রিয়জনের সুস্থ হয়ে ওঠা। সেই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা।
গত ২৭ এপ্রিল ভোরে সেহরি খাওয়ার পরে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে র‌্যাব ৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম ফয়জুল ইসলামের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাকরি বলে কথা! তাই জ্বর আর শরীর ব্যথা নিয়েই পরদিন অফিসে যান তিনি, টানা দুদিন অফিস করেন। এর পর তার স্ত্রীরও জ্বর-গলাব্যথা শুরু হয়। এবার আর দেরি না করে দুজনই পরীক্ষা করান। ৪ মে তাদের ফোন করে জানানো হয়, স্বামী-স্ত্রী দুজনই করোনা পজিটিভ। এখন চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন এ দম্পতি। দুই কন্যাসন্তানের জনক ফয়জুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, আমাদের ছোট মেয়েটা এখনো মায়ের বুকের দুধ খায়। তাকে আইসোলেশনে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে সে ভালো আছে। তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের খুব কম চাকরিই আছে, যেখানে পুলিশের মতো যে কোনো

দুঃসময়ে সামনে এগিয়ে আসতে হয়, যে কোনো দুর্যোগে ফ্রন্টলাইনে থাকতে হয়। মানুষের জন্য কাজ করার এমন সুযোগ অন্যত্র নেই। অন্যরা পালাক্রমে ফ্রন্টলাইনে থাকে। আমি জ্বর নিয়েও অভিযান করেছি। পুলিশ সদস্য হিসেবে এটিই সবচেয়ে গর্বের বিষয়। ফয়জুল ইসলাম এখন তার করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনারের (এসি) গাড়িচালক মো. আব্দুল বারী, বডিগার্ড তাপস, অফিসের কম্পিউটার অপারেটার কনস্টেবল হেলাল ও হুমায়ূন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গাড়িচালক আব্দুল বারি পুলিশের করোনা চিকিৎসায় ডেডিকেটেড ইমপালস হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৭ মে করোনা ধরা পড়ার পর ৯ মে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একমাত্র কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে ছাড়াই আব্দুল বারীর এবারের ঈদ কাটবে হাসপাতালেই। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, ‘দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে করোনা হয়েছে। এতে আমার কোনো দুঃখ নেই। সুস্থ হয়ে উঠতে পারলেই ঈদের মতো আনন্দিত হব; আবার কাজে যোগ দেব।’
মতিঝিল জোনের দুই থানা পল্টন ও মতিঝিলের দুই ওসিই করোনায় আক্রান্ত। তাদের মধ্যে মতিঝিলের ওসির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) করোনা টেস্ট সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এডিসি মিশু বিশ^াস আমাদের সময়কে বলেন, এবার ঈদের সময়ও আমাদের সময় কাটবে আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের পাশে থেকে মনোবল জোগানোয়। এভাবে পুলিশ সদস্যদের পাশে থাকতে পারাটাই হবে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে ঈদ আনন্দ।
এ বিষয়ে মতিঝিলের এসি জাহিদুল ইসলাম সোহাগ আমাদের সময়কে বলেন, আমার জোনের দুই ওসিসহ আমার কয়েক জন অফিস স্টাফ আক্রান্ত হওয়ার পর পরিবারের অন্যদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাসা ছেড়ে পুলিশ অফিসার্স মেসে উঠেছি। তবু কাজ থেকে বিরত থাকিনি।