এত প্রণোদনার পরও লকডাউন শিথিল কেন, তারানার ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৩ মে ২০২০ ১০:০৬ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ১৬:৩৪
সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। পুরোনো ছবি

করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এমন অবস্থায় দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি অ্যাডভোকেট তারানা হালিম।

গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে নিজের ফেরিভায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে তিনি এই ক্ষোভের কথা জানান। প্রশ্ন তোলেন, এত প্রণোদনার পরও লকডাউন শিথিল কেন?

ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এত উদাসীন কেন? মরলে মরুক- ধরনের উদাসীনতা। কিন্তু এক একটি জীবন মানে একটি সংখ্যা নয়। একটি পরিবার, কোনো পিতা-মাতার সন্তান। এভাবে মানুষ সংখ্যা হয়ে যাবে!! এত প্রণোদনার পরও লকডাউন শিথিল কেন? পোশাক কারখানায় সামাজিক দূরত্ব (social distancing) মানা হচ্ছে না কেন? মার্কেটে মানুষের ঢল কেন? ভাইরাসের গতি যখন ঊর্ধ্বমুখী থাকে তখন লকডাউন শিথিলের পরিণাম দেখছে আমেরিকা। এই ভুল আমরা কেন করবো!! অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, কেরালা (ভারত) থেকে শেখা দরকার ছিল। অনেক সাংবাদিক, চিকিৎসক, পুলিশ ও সেনাসদস্য করোনা আক্রান্ত, অনেক মানুষ করোনা পজিটিভ (Corona positive) হচ্ছে প্রতিদিন-যারা না পরীক্ষা করাচ্ছে, না করাবার সুযোগ পাচ্ছে? অথচ ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে প্রতিদিন নিজের অজান্তেই। জীবন বাঁচাতে-কঠিন হতে হলে, হতে হবে। আমি বুঝছি না-এখন কি ছুটি চলছে, না লকডাউন? আমরা কি মৃত্যুগুলো খুব সহজভাবে মেনে নিচ্ছি? ভাবছি-সড়ক দুর্ঘটনার মতো করোনাও মানুষকে সংখ্যা বানিয়ে দিলে দিক। যখন একটু শ্বাস নেওয়ার জন্য ছটফট করে মানুষ তখন একটু অক্সিজেন (oxygen) কত মূল্যবান! সময়ের এক ফোঁড় অসময়ের দশ ফোঁড়-এর সমান। ছোটবেলায় পড়েছিলাম-ভুলিনি।’

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়ে দেশে ২৪ জন মারা গেছেন। এটি একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এ নিয়ে মোট ৪৩২ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ৬৯৪ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২০৫ জনে।