নোয়াখালীতে আরও ৭৭ জন করোনায় আক্রান্ত

নোয়াখালী প্রতিনিধি
২৩ মে ২০২০ ১৫:৪৬ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ১৫:৫১
পুরোনো ছবি

নমুনা দেওয়ার পর মারা যাওয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার গণিপুর এলাকার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম মিন্টুসহ (৪৭) নতুন করে আরও ৭৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগ শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩৫২ জন।

আজ শনিবার দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মো মোমিনুর রহমান।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৭৭ জন। যার মধ্যে জেলার সদর উপজেলায় ৪, বেগমগঞ্জে ৪২, সোনাইমুড়ীতে ৩, সুবর্ণচরে ৩, সেনবাগে ৪, কবিরহাটে ১৬ ও চাটখিলে ৫ জন।

জেলায় এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১৭৭ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ৮৩৮ জনের ফলাফল এসেছে। আইসোলেশনে রয়েছে ৩২০ জন। যার মধ্যে কোভিড-১৯ হাসপাতাল শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে রয়েছেন ১৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ২৭ জন। মারা গেছেন ৫ জন।

কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফজলুল হক বাকের অপু জানান, আক্রান্ত ১৬ জনের মধ্যে নরোত্তমপুরে ১০, ঘোষবাগে ২, ধানশালিকে ২, সুন্দলপুরে ১ ও বাটইয়া ইউনিয়নে ১ জন রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের একজন স্টাফ ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কমিউনিটি হেলথ ফোভাইডর রয়েছে। আক্রান্তদের বাড়ি লকডাউন করে তাদের আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের সংস্পর্শে আসা বাকিদের নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অসীম কুমার দাস বলেন, ‘চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী ওই ব্যক্তি ৪-৫ দিন ধরে জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর পরদিন বুধবার সকাল ৮টার দিকে তিনি মারা যান।’

তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার সকালে পাওয়া রিপোর্টে তিনিসহ ৪২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশির ভাগই চৌমুহনী পৌরসভার বাসিন্দা। তাদের বাড়ি লকডাউন করে সংস্পর্শে আসা সকলের নমুনা নেওয়া হবে।’  

উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা

জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫২ জন। যার মধ্যে রয়েছে বেগমগঞ্জে ১৭৮ জন, সদরে ৪১ জন, কবিরহাটে ৫৪ জন, চাটখিলে ২৬ জন, সোনাইমুড়ীতে ১৮ জন, হাতিয়ায় ৬ জন, সেনবাগে ১১ জন, কোম্পানীগঞ্জে ৭ জন, সুবর্ণচর উপজেলায় ১১ জন।

তাদের মধ্যে মারা গেছেন—সোনাইমুড়ীতে মোরশেদ আলম (৪৫) নামে এক ইতালি প্রবাসী, সেনবাগে এক রাজমেস্ত্রী মো. আক্কাস (৪৮), বেগমগঞ্জে তারেক হোসেন (৩০) ও আমিনুল ইসলাম মিন্টু (৪৭) নামের দুই ব্যবসায়ী ও সোনাইমুড়ীতে ফখরুল ইসলাম বাচ্চু (৫৯) নামের এক কৃষক।