স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালী করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান টোকিও’র মেয়র

ফখরুল ইসলাম,জাপান
২৩ মে ২০২০ ১৭:৫৩ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ১৭:৫৯
টোকিও’র মেয়র কোইকে ইউরিকো। পুরোনো ছবি

জাপানের রাজধানী টোকিও’র মেয়র কোইকে ইউরিকো দেশটির অর্থমন্ত্রী নিশিমুরা ইয়াসুতোশির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় স্বাস্থ্যখাত আরও শক্তিশালী করতে অর্থমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তিনি।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সামাল দেওয়ার টাস্কফোর্সের দায়িত্বেও রয়েছেন নিশিমুরা। গতকাল শুক্রবার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, আগামী সোমবার টোকিও’র ওপর থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার হবে কিনা, সরকার তা বিবেচনা করে দেখছে। মূলত এই জরুরি অবস্থা অন্তত ৩১ মে পর্যন্ত বহাল রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দেশের অধিকাংশ জায়গা থেকে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করে হলেও—টোকিও এবং উত্তরের হোক্কাইদোসহ পাঁচটি জেলায় এখনো তা বলবৎ রয়েছে।

টোকিও থেকে আগেই জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হতে পারে, এমন সম্ভাবনার মাঝে কোইকে এ বিষয়ে কিছু প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তিনি পিসিআর পরীক্ষা চালানোর ক্ষমতা আরও বাড়ানোসহ চিকিৎসা ক্ষেত্রে টোকিও’র প্রস্তুতি আরও উন্নত করে তোলায় নিশিমুরার সাহায্য কামনা করেছেন।

এ ছাড়া কোইকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের জন্য ভাড়ার ক্ষেত্রে ভর্তুকির ব্যবস্থা করাসহ আরও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। সাইফুল ইসলাম নামে এক প্রবাসী জানান, জাপানে যারা থাকেন তাদের প্রতি মাসে খরচ ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। এটা হলো যারা এক বাসায় ৩/৪ জন থাকেন তাদের হিসাব। আর যারা পরিবার নিয়ে থাকে তাদের দুই লাখ টাকা মাসিক খবচ।

তিনি বলেন, ‘জাপান সরকার ২ মাস জরুরি অবস্থায় আমাদের ১ লাখ ইয়েন দেবে বলেছে। আমাদের বাসা ভাড়াও দেবে বলে শুনেছি। আমাদের জব চলে গেছে, আমরা জব না পেলে কি করব বলেন? বাংলাদেশে পরিবার আছে, তারা আমাদের ওপর নির্ভর করে থাকে, এই কষ্ট কোথায় বলব?’

‘শুনেছি বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদেরকে লোন দিবে আমরা পাবো কি? আমরা কারো কাছে চাইতে পারি না, সইতে পারি না। বাংলাদেশ সরকার প্রতি অনুরোধ আমাদের মতো প্রবাসীদের লোনের টাকা যেন সবাই পাই’, বলেন সাইফুল ইসলাম।

প্রসঙ্গত, জাপানে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ২৪ জন, মোট শনাক্ত হয়েছে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৩৮৫ জন। ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে  ৯ জন, মোট মৃত্যু ৮১৫ জনের।

এ ছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ২৫৭ জন, মোট সুস্থ হয়েছে ২৫৭ জন।