প্রথম দফায় কার্যকর চীনের ভ্যাকসিন

অনলাইন ডেস্ক
২৩ মে ২০২০ ১৮:১৫ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ২০:৫৮
প্রথম ধাপে ‘কার্যকর’ বলে প্রমাণিত হয়েছে চীনের ভ্যাকসিন। ছবি : সংগ্রহীত

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রথম ধাপে ‘কার্যকর’ বলে প্রমাণিত হয়েছে চীনের ভ্যাকসিন। ভ্যাকসিনটির ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর গতকাল শুক্রবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে চিকিৎসা বিষয়ক বিখ্যাত সাময়িকী দ্য ল্যানসেট।

তবে এই ভ্যাকসিনটি ব্যবহার করা যাবে কি না, সেটি শতভাগ নিশ্চিত হতে আরও দুটি ট্রায়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। ল্যানসেট জানিয়েছে, (Ad5-nCoV) ভ্যাকসিনটি মানুষের শরীরে নিরাপদ, সহনশীল এবং নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভালো রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।

প্রথম ধাপে ১০৮ জন স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবীকে নিয়ে ভ্যাকসিনটির ট্রায়াল দেওয়া হয়। ২৮ দিন বাদে বিজ্ঞানীরা ‘আশা জাগানিয়া’ ফল পান। বাকি দুটি ধাপের ট্রায়াল শেষ হতে হতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে।

মানুষের শরীরে ক্ষতিকর কোনো ভাইরাস প্রবেশ করলে রক্তে আপনা-আপনি এক ধরনের প্রতিরোধক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। তৈরি হয় ভাইরাস প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি। অধিকাংশ ভাইরাস সেই অ্যান্টিবডির কারণে শরীরের ক্ষতি করতে পারে না। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাস পারছে। একে প্রতিরোধ করতে হলে টিকার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থাকে (ইমিউন সিস্টেম) শক্তিশালী করা দরকার। বিজ্ঞানীরা সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চীনে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করেছে। ল্যানসেট যেটির খবর দিল, সেটি নিয়ে কাজ করছে বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি। প্রতিষ্ঠানটির প্রফেসর ওয়েই চেন প্রথম ধাপের ডেটা বিশ্লেষণকে ‘গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’ বলেছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফলাফল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। আমাদের ভ্যাকসিনের একটি ডোজে ১৪ দিনেই ভাইরাস-প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি এবং টি সেল তৈরি হয়েছে। পরবর্তী ট্রায়ালে যাওয়ার আগে এটি আমাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।’

ওয়েই চেন বলেন, ‘তবুও এই ফলাফলকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করা উচিত। কোভিড-১৯ রোগের ভ্যাকসিন তৈরি কষ্টসাধ্য। যে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত আমাদের ভ্যাকসিনে দেখা গেছে, সেটি চূড়ান্ত নয়। এই ফলাফল আশা জাগাচ্ছে। আমাদের এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’

কোনো প্রতিষেধক না থাকা কোভিড-১৯ রোগের ভ্যাকসিন তৈরি করতে চীনসহ আরও অনেক দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। এর মধ্যে আমেরিকায় ১২টি কোম্পানি চেষ্টা করছে। দেশটির সঙ্গে যৌথভাবে জার্মানি আরেকটি নিয়ে কাজ করছে।

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা একাধিকবার বলেছেন, সেপ্টেম্বরের ভেতর তাদের ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে। তবে এই ভ্যাকসিনটি নিয়ে একটু শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বানরের শরীরে ট্রায়ালে ‘অকার্যকর’ প্রমাণিত হয়েছে।

তবে চীনের মতো আমেরিকার মডার্না কোম্পানির ভ্যাকসিনটি প্রথম ধাপের ট্রায়ালে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। আমেরিকা জানিয়েছে, সামনের বছরের শুরুতে তারা পৃথিবীজুড়ে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারবে।

স্বাভাবিকভাবে নতুন একটি রোগের ভ্যাকসিন তৈরি করতে কয়েক বছর লেগে যায়। ডেঙ্গুর মতো অনেক রোগের ভ্যাকসিন আবার এখন পর্যন্ত তৈরি সম্ভব হয়নি। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। অনেকের শঙ্কা, করোনার ক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে।