আশ্রয়কেন্দ্রে নারীকে শ্লীলতাহানি, নালিশ করায় ১০ জনকে কুপিয়ে জখম

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি
২৩ মে ২০২০ ২০:৪৮ | আপডেট: ২৩ মে ২০২০ ২৩:৪১

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে এক নারীকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে নালিশ করায় ওই পরিবারের ১০ জনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের সময় উপজেলার কড়ইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে ভুক্তভোগী নারী পরিবারসহ আশ্রয় নেন। এ সময় স্থানীয় প্রভাবশালী রাকিব, সুমন ও সিফাতসহ সাত থেকে আটজন যুবক ওই নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। পরদিন সকালে তাদের পরিবারের কাছে বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী অভিযোগ করলে তাকে মারধর করেন অভিযুক্ত যুবকেরা। এরপর মারধরের বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমনের কাছে নালিশ করায় দ্বিতীয় দফায় ওই পরিবারের ১০ জনকে কুপিয়ে জখম করেন তারা।

বরগুনা-২ আসনের সাংসদ শওকত হাসানুর রহমান রিমন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান কালে কিছু বখাটে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকালে মারধরের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি আমার কাছে অভিযোগ করতে আসলে আমি তাদেরকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে বলি। কিন্তু আমাকে না জানিয়ে তারা চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরার পথে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের কড়ইতলা গ্রামে মাহিন্দ্রা থেকে নামিয়ে আবারও তাদের উপর হামলা করে জখম করে বখাটেরা।’

এমপি রিমন আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা যতই শক্তিশালী হোক আইনের ঊর্ধ্বে কেউ না। পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে লোকজন উপজেলার কড়ইতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেয়। তখন সেখানে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বিকেলে মারধরের ঘটনা এমপির মাধ্যমে জানতে পারি।’

ওসি আরও বলেন, ‘পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’