ভারতে চোর সন্দেহে হত্যা বাংলাদেশিকে

জুড়ী প্রতিনিধি
৪ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৪ জুন ২০২০ ০১:৪৬

ভারত সীমান্তের ভেতর গরু চোর সন্দেহে বাংলাদেশিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয়রা। এ সময় গুরুতর আহত একজনকে ভারতের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৩১ মে ভারতের করিমগঞ্জের পাথারকান্দি থানাধীন পুতনি চা-বাগানের চম্পাবাড়ী এলাকায় গরুচোর সন্দেহে চারজনকে পাকড়াও করে স্থানীয় জনগণ। ঘটনাস্থলেই একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলে এলাকাবাসী ও অন্য তিনজন আহত হয়।

মৃত ব্যক্তির নাম রনজিত রিকমন (৩০)। তিনি মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ধামাই বাজার টিল্লা এলাকার রশিক লাল রিকমুনের ছেলে। আহতদের একজন একই জেলার

জুড়ী উপজেলার কুচাই চা বাগানের মৃত গাজু মুন্ডার ছেলে মলোন মুন্ডা (৩২)। অন্য দুইজন ভারতীয় বলে জানা গেছে। ভারতের করিমগঞ্জ হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত হয় এবং আহতরা একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

বর্ডার গার্র্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫২ ব্যাটালিয়ন লাঠিটিলা সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানী কমান্ডার ল্যান্স নায়েক জাকির হোসেন জানান, সোমবার সন্ধ্যায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ আমাদের একটি চিঠি দিয়ে জানায় বাংলাদেশের দুইজন লোক ভারতে অনুপ্রবেশ করে গরু চুরিকালে স্থানীয় জনতা তাদের গণপিঠুনি দেয়। এতে এক জন বাংলাদেশি নিহত এবং অপরজন আহত হয়। বিএসএফ লাশ আনতে বলে। আমরা তাদের পরিচয় জানতে চাইলে বিএসএফ আমাদের দু’টি ঠিকানা দেয়। আমরা দুই্ দিন তন্ন তন্ন করে খুঁজে ঠিকানার কোনও অস্থিত্ব পাইনি। তাদের দেওয়া নাম, ঠিকানা সঠিক ছিল না। এদিকে গতকাল স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতায় তাদের ছবি ও পরিচয় পাওয়া যায়।

নিহত রনজিত পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা বলে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাস নিশ্চিত করেন। এছাড়া মলেন মুন্ডার পরিচয় নিশ্চিত করে কুচাই এলাকাবাসী বলেন, সে উপজেলার পূূর্বজুড়ী ইউনিয়নের জামকান্দি এলাকায় বিয়ে করে সেখানে শ্বশুর বাড়ীতে বসবাস করতো।

এ প্রসঙ্গে বর্ডার গার্র্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫২ ব্যাটালিয়ন বিয়ানীবাজার-এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মো: শহীদুল্লাহ গতকাল বিকেলে বলেন, বিএসএফ বিষয়টি আমাদের জানিয়েছে। তবে ভূল তথ্যের কারণে নিহত ও আহতের পরিচয় বের করা যায়নি। বর্তমানে পরিচয়ের বিষয়ে প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাশ দেশে আনা হবে।