মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করছি : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ জুন ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৫ জুন ২০২০ ০০:১১

করোনা থেকে মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। গতকাল বৃহস্পতিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান গ্রহণকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে অনুদান নেন তার মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। এ সময় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এই করোনা

ভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে। চেষ্টা করে যাচ্ছি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত করতে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা, অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া, সব দিক থেকে কাজ করে যাচ্ছি। কিছু কিছু সেক্টর উন্মুক্ত করা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু অর্থনীতি একেবারে স্থবির অবস্থায় রয়েছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখন উন্মুক্ত করছি। কারণ মানুষকে তো বাঁচাতে হবে। এই কর্মকা-গুলো না করলে কতটা সহযোগিতা করব। তার পরও আমি বলব এই কমাস এ দেশে প্রায় প্রতি স্তরের মানুষকে ব্যাপকভাবে সহযোগিতা দিচ্ছি।

‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা করেছি, আমাদের দলের পক্ষ থেকে করেছি। অনেক বিত্তশালী তারাও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এই আন্তরিকতাটুকু আছে বলে এখনো খেতে পারছে বা চলতে পারছে। এই সহানুভূতিটুকু মানুষ দেখাতে পারছে।’

চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ব্যাপকভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি এবং দিয়ে যাচ্ছি। বিনাপয়সায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। করোনা ভাইরাস এটা টেস্ট করা বা চিকিৎসা করা বেশ ব্যয়বহুল। তার পরও সেটা করে যাচ্ছি। অর্থনৈতিক কর্মকা- যাতে চলে, সর্বস্তরের সবাই যেন কার্যক্রম চালাতে পারে তার জন্য বিশেষ প্রণোদনাও দিচ্ছি। জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছি।

ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ আমরা করতে পেরেছি বলেই অনেক কাজ সহজ হয়েছে। যেমন মানুষকে সহযোগিতা দেওয়া, তাদের কাছে নগদ টাকা পৌঁছানো, চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা ঘরে বসে চিকিৎসা পরামর্শ পেতে পারেন সেই ব্যবস্থা করা, ব্যবসাবাণিজ্য চালানো, ক্রয়-বিক্রয়,আত্মীয়স্বজন বা আপনজনের সঙ্গে কথা বলা, দেখা সাক্ষাৎ, চিকিৎসাসেবা অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে করে যাচ্ছি।’

করোনা ভাইরাসে যারা মারা গেছেন তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়; বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি; কর্ণফুলি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড; বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশন; আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড; আইপিডিসি ফাইন্যান্স লিমিটেড; লংকা-বাংলা ফাইন্যান্স লিমিটেড; উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড; যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; জিএমএস কম্পোজিট নিটিং ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড ও জিএমএস টেক্সটাইল; বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ; আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক; কর্মসংস্থান ব্যাংক; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, আলী বাবা অ্যান্ড জ্যাক মা ফাউন্ডেশন; ফ্যাশন গ্লোব গ্রুপ; আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ; বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়ার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস); সৎসঙ্গ, হেমায়েতপুর, পাবনা; পিপিএস প্লাস্টিক পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ সাহাবুদ্দি চুপ্পু, ডা. রাফা ইসলাম; ডা. সোনিয়া জেমিন প্রীত; ডা. সাদিয়া আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান প্রদান করেন।