বিশ্বজুড়ে নিন্দা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৩ জুলাই ২০২০ ০০:১৮

হংকংয়ে চীনের নতুন আইনের নিন্দা জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। এতে হংকংয়ের স্বাধীনতার ক্ষুণœ হয়েছে। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নি¤œকক্ষে হংকং বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা বিল পাস করা হয়েছে, যার আওতায় চীনা কর্মকর্তারা রয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্য হংকংয়ের ৩০ লাখ বাসিন্দাকে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। খবর বিবিসি।

১৫০ বছর ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তর করে যুক্তরাজ্য। সেই সময় বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এর অন্যতম ছিল সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। চীনের মূল ভূখ-ে এ দুটি উপেক্ষিত থাকলেও হংকংয়ের ক্ষেত্রে ছিল তা ভিন্ন। এ কারণেই মূলত ‘এক দেশ, দুই নীতি’ পদ্ধতির আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে। বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হংকংকে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন। এই সময়ে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতি বাদে অন্য সব বিষয়ে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করতে পারবে অঞ্চলটি। তবে গত বছর অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে সেখানে বিতর্কিত হংকং নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় বেইজিং। এখন এর দোহাই দিয়ে আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির ওপর বাড়তি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাবে চীন। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাস করে চীন। এ আইনের আওতায় হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ করাসহ এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে। গত বুধবার হংকংয়ে আইনটি কার্যকর হওয়ার প্রথমদিন হাজার হাজার মানুষ জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে বিক্ষোভে নামায় পুলিশ ৩ শতাধিক জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নি¤œকক্ষের স্পিকার নতুন এ আইনকে পাশবিক বলে বর্ণনা করেছেন এবং একই সঙ্গে হংকংয়ের জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে কংগ্রেসের নি¤œকক্ষে হংকংবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পাস করা হয়েছে। এরপর বিলটি সিনেট ও চূড়ান্ত অনুমোদনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিলটির নিন্দা জানিয়েছে। এ ছাড়া চীনের প্রতিবেশী জাপানও বিলটির নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

এদিকে হংকংয়ের প্রায় ৩০ লাখ বাসিন্দাকে যুক্তরাজ্যে ‘বসবাস করার ও পরিশেষে নাগরিকত্বের আবেদন করার’ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। নতুন নিরাপত্তা আইনে হংকংয়ের ‘স্বাধীনতা’ ক্ষুণœ হয়েছে অভিযোগ করে এতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের যুক্তরাজ্যের সাবেক উপনিবেশটি ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বিবিসি জানিয়েছে, এ প্রস্তাব অনুযায়ী হংকংয়ে যুক্তরাজ্যের পাসপোর্টধারী প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার বাসিন্দাসহ আরও ২৬ লাখ ‘উপযুক্ত’ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যে গিয়ে ৫ বছর বসবাস করতে পারবেন, এর এক বছর পর তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ১৯৮৭ সালে হংকংয়ের ব্রিটিশ পাসপোর্টধারীদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ওই অধিকারে বিধিনিষেধ আরোপের ফলে বর্তমানে তারা ভিসা ছাড়া যুক্তরাজ্যে গিয়ে ৬ মাস অবস্থান করতে পারতেন।

জনসন বলেছেন, যৌথ ঘোষণায় হংকংয়ের যে স্বাধীনতা ও অধিকার সুরক্ষিত হয়েছিল নতুন নিরাপত্তা আইনে সেই উচ্চমাত্রার স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণœ হয়েছে।

আমরা পরিষ্কার করছি, চীন এই ধারা অব্যাহত াখলে আমরা যাদের ব্রিটিশ নাগরিকের (বিদেশি) মর্যাদা আছে তাদের জন্য একটি নতুন পথ খুলে দেব আর এখন আমরা তাই করছি।