রোনালদোর রেকর্ড জয় জুভেন্টাসের

ক্রীড়া ডেস্ক
৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ০০:৩৬

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকতেই নিজেকে ফ্রি-কিক স্পেশালিস্টে পরিণত করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদে গিয়েও অব্যাহত ছিল ধারা, ৯ বছরে ফ্রি-কিক থেকে গোল করেছিলেন ৩৩ বার। কিন্তু জুভেন্টাসে যোগ দেওয়ার পর ফ্রি-কিক থেকে গোল করা যেন ভুলেই গেলেন একরকম। ৪২ বার ব্যর্থ হয়ে ৪৩তম বারে এসে সেই খরা কেটেছে রোনালদোর। তুরিন ডার্বিতে ম্যাচের ৬১ মিনিটে তুরিনোর বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেয়েছিল জুভেন্টাস। নাকলবল কিকে সেখান থেকেই সরাসরি জালে বল জড়িয়ে গোল করেছেন রোনালদো। ২০১৭ সালে ক্লাব বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ক্লাবের হয়ে ফ্রি-কিক থেকে গোল পেয়েছেন তিনি। দল জয় পেয়েছে ৪-১ গোলে।

বয়সটা ৩৫। কে বলবে! ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন দিনকে দিন তরুণ হচ্ছেন। পর্তুগিজ যুবরাজ এবার ভাঙলেন ৬০ বছরের পুরনো এক রেকর্ড। ১৯৬০-৬১ মৌসুমের পর জুভেন্টাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক মৌসুমে ২৫ গোল করার রেকর্ড গড়লেন। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ওমর সিভোরির সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন রোনালদো। লিগে এখনো জুভেন্টাসের বাকি আরও ৮ ম্যাচ। ৩৫ বছর বয়সী যেভাবে ছুটছেন তাতে নাটকীয় কিছু না হলে সিভোরির রেকর্ডটাও ভেঙে দেওয়ার কথা তার।

রোনালদোর মতো একই ধারায় ছুটছেন দিবালাও। জুনে সিরি এ ফেরার পর এই জুটি টানা ৪ ম্যাচেই গোল পেয়েছেন। আগের দুই ম্যাচের মতো এদিনও জুভেন্টাসকে এগিয়ে দেওয়ার কাজটা করেছেন দিবালা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই গোলের দেখা পায় জুভরা। তুরিনের ডিফেন্ডারদের দারুণভাবে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন দিবালা। ২৯তম মিনিটে বল নিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে কুয়াদরাদোকে দিয়ে দেন রোনালদো। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কলম্বিয়ার এই মিডফিল্ডার। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে এসে অবশ্য স্পট কিক থেকে গোল করে তুরিনোকে আশা দেখিয়েছিলেন আন্দ্রেয়া বেলোত্তি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের সে আশা হতাশায় রূপ নেয়।

৬১ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় জুভেন্টাস। আর বাঁকানো ফ্রি-কিকে দারুণ এক গোল উপহার দেন রোনালদো। ৮৭ মিনিটে তুরিনোর কষ্ট আরও বাড়ে আত্মঘাতী গোলে।

ফ্রি-কিক থেকে গোলের পর রোনালদোর উদযাপনে স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল অনুভূতিটা। ম্যাচ শেষে রোনালদো নিজেই গোলটির মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার কথা জানালেন, ‘আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে ফ্রি-কিক থেকে গোল পাওয়াটা জরুরি ছিল।’

জুভেন্টাস কোচ মারিসিও সারিও জানালেন, ম্যাচ শেষে রোনালদো তার কাছেও ফ্রি-কিক থেকে গোল পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, ‘আমার কাছে এটা (ফ্রি-কিক থেকে দীর্ঘ সময় গোল না পাওয়া) বড় কোনো সমস্যা মনে হয়নি। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সে এসে আমাকে বলেছে, ‘অবশেষে’।’