রদবদলের কথা ভাবা জরুরি

৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৬ জুলাই ২০২০ ২২:১৬

করোনা মহামারীকে কেন্দ্র করে সরকারকে বরাবরই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে। এসবের প্রধান কারণ তো মন্ত্রণালয়ের কর্ণধার স্বয়ং মন্ত্রী মহোদয়। প্রথম পর্যায়েই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন কীভাবে কে কোন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তা তিনি জানেন না। তাতে বোঝা গিয়েছিল সরকারি পর্যায়ে এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে কোনোই সমন্বয় নেই। আদতেই যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে তা প্রমাণ করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান সরাসরি টিভিতে জানিয়েছেন যে, করোনার দৌরাত্ম্য সহজে থামছে না, দুবছর পর্যন্ত চলতে পারে। এজন্য সেতুমন্ত্রী নিশ্চিতভাবেই সরকারপ্রধানের পরামর্শে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে তিরস্কার করেছিলেন এবং ভবিষ্যতে এমন বল্গাহীন কথা বলা থেকে সবাইকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। অবশ্য তাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অবস্থানে তেমন পরিবর্তন ঘটেনি।

সংসদের বাজেট অধিবেশনে দলীয় সাংসদদেরও সমালোচনার মুখে এক পর্যায়ে তাদের গৃহীত ব্যবস্থার সাফাই গাইতে গিয়ে তিনি ভেন্টিলেটরের অপ্রতুলতায় ক্ষতি নেই প্রমাণ করতে বলে ফেলেন, যে ৫০টি যন্ত্র দেশে আছে তাতে এ পর্যন্ত যত রোগীকে দেওয়া হয়েছে সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এমন সম্পূর্ণ নেতিবাচক একটি চিত্র দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তি কীভাবে তুলে ধরতে পারেন তা বোধগম্য নয়। এর পরই আবার গণমাধ্যমের কাছে বলেছেন, করোনায় দেশে তেমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে না। তার পরদিনই অবশ্য সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তার এ ধরনের বক্তব্য সাধারণ মানুষের মনে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেহারা ভেসে ওঠে। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর দেশের প্রেসিডেন্ট এমন উল্টাপাল্টা খেয়ালখুশিমতো কথা বললে বড় ক্ষতি হবে না, কারণ সেদেশে বিভিন্ন বিভাগ এবং রাজ্য প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তোয়াক্কা করে চলে না। কিন্তু আমাদের দেশে বিষয়টা তেমন নয়, এখানে অধীনস্থ বিভাগগুলো সরাসরি মন্ত্রী-সচিবের অধীনে থেকেই কাজ করে।

সাধারণত পৃথিবীর সব দেশে এই একটি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক বা একাধিক পদে চিকিৎসকরা থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে এখন এর ব্যতিক্রম চলছে, যদিও আওয়ামী লীগের সাংসদ ও উপদেষ্টা বা সদস্যদের মধ্যে একাধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন। বস্তুতপক্ষে এই মহামারীর সংকটকালে স্বাস্থ্য, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, খাদ্য, অর্থ, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, যোগাযোগ প্রভৃতি মন্ত্রণালয় একটি গুচ্ছের মতো কিছু কাজ একযোগে সম্পন্ন করলে পারস্পরিক সমঝোতা ও মাঠপর্যায়ে কাজের সমন্বয় ভালো হতো। অবশ্য যেখানে খোদ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েই এর অভাব সুস্পষ্ট সেখানে এমন উদ্যোগ আশা করাই বৃথা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য বিষয়ে অভিজ্ঞ আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন, গণমাধ্যম মোকাবিলায় সক্ষম এবং সহজাতভাবে জনদরদি একজন নেতার প্রয়োজন ছিল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষে। সংসদে অনেকেই সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর নাম করেছেন। আমরা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির কথা বলব না, কেবল জোর দিয়ে বলব এ পদে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।