সাবেক স্বামীর হাতে নির্মমভাবে খুন হন সায়েমা

আহমদুল হাসান আসিক
৭ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২০ ০৮:৩৮

আট বছর আগে শাহ আলমের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল সায়েমা আক্তারের। তাদের সংসারে দুটি সন্তানও আছে। তারা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসবাস করছিলেন।

কিন্তু সায়েমা বিভিন্ন সময় ঢাকায় এসে মাদকদ্রব্য গাঁজার ব্যবসা করতেন। মাদকের ব্যবসা করতে গিয়েই সাগর মিয়া নামে এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। বিগত সাত মাস আগে শাহ আলমকে ডিভোর্স দিয়ে সায়েমা বিয়ে করেন সাগরকে। দুই সন্তানকেও নিজের সঙ্গেই রাখেন। এরই মধ্যে শাহ আলম সন্তানদের দেখতে প্রায়ই সায়েমার বাসায় আসতে থাকেন। সায়েমার দ্বিতীয় স্বামী সাগর এটি অপছন্দ করতেন। এমনকি শাহ আলমকে বিভিন্ন সময় মারধরও করেন সাগর। এ নিয়ে শাহ আলমের মনে ক্ষোভের জন্ম নেয়। এই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পনা করে সায়েমাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন শাহ আলম। নির্মম এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর সবুজবাগের আহাম্মদবাগ এলাকায়।

পুুলিশ জানায়, গত ১৬ জুন আহাম্মদবাগ এলাকার একটি গলিতে সায়েমাকে একের পর এক ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় শাহ আলম। ১১ দিন পর ২৭ জুন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সায়েমা। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার কেরানীগঞ্জ থেকে শাহ আলমকে গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত ঘটনা জানতে পারে পুলিশ। খুনি শাহ আলমও একজন মাদকসেবী।

পুলিশের সবুজবাগ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রাশেদ হাসান আমাদের সময়কে বলেন, এ ঘটনায় সায়েমার বড় ভাই মো. ফারুক সবুজবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে ডিএমপির ইন্টিলিজেন্স অ্যান্ড এনালাইসিস ডিভিশনের (আইএডি) সহায়তায় অভিযান চালিয়ে শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিকল্পনা করেই সায়েমাক হত্যা করে শাহ আলম। হত্যার আগে দোকান থেকে ২০০ টাকা দিয়ে ছুরি কেনেন শাহ আলম। ঘটনার দিন সায়েমাকে সবুজবাগের আহাম্মদবাগের বাসা থেকে রাস্তায় ডেকে আনেন। তারপর ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান।