পাপুল-রাষ্ট্রদূতের সংশ্লিষ্টতার খোঁজ হবে

কূটনেতিক প্রতিবেদক
৮ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২০ ০২:০৯

অর্থপাচার ও মানবপাচার মামলায় কুয়েতে আটক এমপি কাজী শহিদ পাপুলের সঙ্গে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালামের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন। গতকাল এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, অভিযোগগুলো দেখে কিছু সত্যতা

থাকলে নিশ্চয়ই তদন্ত হবে। নিয়োগের চুক্তির মেয়াদ শেষে এ মাসেই তিনি চলেও আসবেন। মানবপাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে কুয়েতে আটক বাংলাদেশের এমপি শহিদ ইসলাম পাপুলকে প্রেপ্তারের পর একমাস অতিবাহিত হলেও এখনো কুয়েত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে কোনো তথ্য দেয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শোনার পরপরই এ ব্যাপারে কুয়েত সরকারের বক্তব্য নিতে রাষ্ট্রদূতকে বলা হয়েছে। কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা কোনো চার্জও করেনি। সে সরকার আমাদের কিছু জানায়নি। না জানানোর ফলে আমরা ঢাকায় কুয়েতি অ্যাম্বাসেডরকে অ্যাপ্রোচ করলাম যে, আপনি তথ্যগুলো দেন। ঢাকায় কুয়েতের রাষ্ট্রদূতের কাছে তথ্য চাওয়ার পর সপ্তাহখানেক হলেও এখনো কোনো তথ্য জানায়নি বলেন জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এমপি পাপুল আটকের পর এখনো কুয়েত সরকারের কাছ থেকে তথ্য না আসার জন্য কারণ ব্যাখ্যা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ওখানে লকডাউন এবং অফিস-আদালত মোটামুটি বন্ধ। অফিসে লোক পাওয়া যায় না পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টা অত্যন্ত দুঃখজনক। কুয়েত সরকার এমপির বিষয়ে জানালে দেশের নিয়ম অনুয়ায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবপাচার ও অর্থপাচারের বিষয়ে জিরো টলারেন্সে নীতি মেনে চলেন।

পাপুলের কুয়েতে অবস্থানের বিষয়ে বলতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এ এমপি কোনো সরকারি পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশে যাননি। তিনি কুয়েতে ২৯ বছর ধরে ব্যবসা করেন। ওখানকার কোম্পানির সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক তিনি। সে দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশের এ পাপলুকে তারা সে দেশের একজন ব্যবসায়ী হিসেবে গ্রেপ্তার করেছে।

অর্থ ও মানবপাচার, ভিসা বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে বর্তমানে কুয়েতের কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে এমপি পাপুল।