শিক্ষায় প্রণোদনা দেওয়ার এটাই সময়

১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:২৩

করোনা মহামারী দুর্যোগের মধ্যে অনেকের অগোচরে থেকে যাচ্ছে শিক্ষার বিপর্যয়। শিক্ষার সব স্তরই এই রোগের আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। বিশেষভাবে বলতে হবে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার বিপর্যয়ের কথা। আমাদের দেশে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা অনেকাংশে বিনামূল্যে হলেও সবটা নয়। সব স্তরের ছাত্ররা সরকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে বই পেলেও বিনামূল্যে বা স্বল্প বেতনের সরকারি স্কুলে সবাই পড়তে পারে না। একদিকে এত ছাত্রের স্থান সংকুলান এখানে হয় না, অন্যদিকে এবং বিশেষভাবে বলার বিষয় হলো, শিক্ষার মানের কথা। আজকে যখন প্রায় সব শিশুকে শিক্ষার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে, তখন পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার মান অর্জন। আর এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক স্কুল অভিভাবকদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না। বস্তুতপক্ষে অভিভাবকদের কিংবা বলা যায় সমাজের, ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতেই বেসরকারি খাতে কিন্ডারগার্টেন নামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বেড়ে চলেছে। বাস্তবতা হলো, দিনে দিনে এসব স্কুলে ছাত্রও বেড়েছে এবং এই স্কুলগুলোকে বাদ রেখে আজ আর শিশু শিক্ষার কথা ভাবা যাবে না।

আজ এ কথাও বাস্তব যে, সমাজে যে মানের শিক্ষার চাহিদা তৈরি হয়েছে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মূলধারার বাংলা মাধ্যম হাইস্কুলগুলোও তা থেকে পিছিয়ে পড়েছে। বিশেষভাবে বর্তমানে এই বিশ্বায়নের যুগে সমাজে সন্তানদের ভালো ইংরেজি শেখানো এবং তাই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এ কথা ঠিক, এ ধরনের অনেক স্কুল সরাসরি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হয়ে আসছে। এ নিয়ে যেমন সমালোচনা আছে, তেমনি সরকারের দিক থেকে সঠিক নির্দেশনা ও নিয়ন্ত্রণও নেই। আবার সরকারি স্কুলে সাধারণভাবে শিক্ষার মান বাড়ানো ও বিশেষভাবে ইংরেজি, গণিত, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রভৃতি আধুনিক কালের চাহিদা পূরণের ব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয়। ফলে এদিক থেকে শিক্ষাঙ্গনে নানামুখী ধারার এক অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা কাম্য নয়। আর এর আড়ালে করোনার কারণে বেসরকারি খাতের যেসব স্কুল রীতিমতো আর্থিক সংকটে ভুগছে তাদের সমস্যা কেউ জানছে না এবং তা সমাধানেরও কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। মনে রাখতে হবে, বাংলা মাধ্যমের অনেক বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত নন। তারা বর্তমানে পূর্ণ বেতন তো দূরের কথা, অনেকে সামান্য পরিমাণও অর্থ পাচ্ছেন না। কোনো কোনো স্কুল উঠে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ অবস্থায় আমরা মনে করি সরকারে কেবল শিল্প ও ব্যবসায়ের দিকেই মনোযোগ দিলে চলবে না। শিক্ষা এমন একটি খাত, যাকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। যেসব প্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিকদের তৈরি করছে, তাদের দুঃসময়ে সরকারি প্রণোদনা পাওয়া একান্ত দরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রী দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা এবং গুণে ও মানে উন্নত করার গুরুত্ব যে অনুধাবন করেন, তা আমরা জানি। কেবল চাই প্রয়োজনের সময় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ। আমাদের মনে হয়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং এর শিক্ষকদের জন্য প্রণোদনা ঘোষণার এটাই উপযুক্ত সময়।