কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করুন

১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ৯ জুলাই ২০২০ ২৩:২৩

বড়দের দ্বন্দ্বের জেরে এবার বলি হলো চার মাসের শিশু আয়শা আক্তার সাদিয়া। রাজধানীর আদাবর থানার পারভিন আক্তার শিশুটির গলা কেটে হত্যা করে। নিষ্পাপ শিশুদের এই হত্যা প্রমাণ করে যে, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অবনতির পাশাপাশি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি ঘটেছে।

প্রতিবেশী পারভিন আক্তারের সঙ্গে নিহত শিশু সাদিয়ার বাবা শাহজাহান ও মা মুর্শিদা বেগমের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল।

বুধবার আমাদের সময়ের খবর অনুযায়ী সাদিয়ার বাবা একজন দিনমজুর ও দাদা বস্তির ম্যানেজার। পারভিনের স্বামীকে বাসার সামনে সাদিয়ার দাদা দোকান করতে না দেওয়ায় তাদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছিল। এ ছাড়া পারভিনের দুই বছর ও চার বছরের দুটি সন্তান সাদিয়াদের বাসায় গেলে তার (সাদিয়ার) মা-বাবা তাদের মারধর করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও শত্রুতার সৃষ্টি হয়। ব্যবসা করতে না দেওয়া, সন্তানদের গালিগালাজ ও মারধর করার কারণে পারভীন সাদিয়ার মাকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন সাদিয়ার মা তাকে ঘুম পাড়িয়ে রান্না করতে গেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘরে ঢুকে ব্লেড দিয়ে গলা কেটে সাদিয়াকে হত্যা করেন পারভীন। তিনি একাই এটি ঘটিয়েছেন।

এই জঘন্য হৃদয়হীন ও অমানবিক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এ কেমন পন্থা? যে শিশুটি এই পৃথিবীর আলো-বাতাসও ঠিকমতো গ্রহণ করার সুযোগ পেল না, সে কেন অন্যের প্রতিহিংসার শিকার হবে? অনেক শিশু এভাবে বড়দের দ্বন্দ্ব-কলহের জেরে খুন হয়েছে। সম্পত্তির হিস্যা নিয়ে আত্মীয়ের মধ্যে বিবাদ, পারিবারিক বিরোধ, ব্যবসায়িক বিরোধসহ নানা কারণে খুন হচ্ছে নিষ্পাপ শিশুরা। শিশু হত্যার ঘটনায় মামলা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর বিচারের নজির থাকলেও সামগ্রিকভাবে বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়টি যথেষ্ট জোরালো নয়। শিশু হত্যার ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটে চলার পেছনে এটাই বড় কারণ। শিশু সাদিয়াসহ সব শিশু হত্যাকারীকে বিচারের মুখোমুখি করে তাদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে কোনো গাফিলতি আমরা দেখতে চাই না।