ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষার্থীরা এখন দিনমজুর

আঞ্জুমান আরা বন্যা ঠাকুরগাঁও
১০ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ০৯:২৩

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। টানা স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ালেখায় মন বসছে না শিক্ষার্থীদের। একঘেয়ামিতে পেয়ে বসেছে তাদের। স্কুল বন্ধ থাকায় ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক শিক্ষার্থী এখন দিনমজুরি দিচ্ছে।

জানা যায়, গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। দফায় দফায় সে ছুটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু এর পরও স্কুল খুলবে কিনা, সেই নিশ্চয়তাও নেই। তবে বন্ধের এই সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংসদ টিভির মাধ্যমে অনলাইনে ক্লাস পরিচালনা করছে সরকার। একই সাথে বিভিন্ন স্কুল-কলেজও আলাদা আলাদাভাবে অনলাইনে ক্লাস চালু করেছে।

তবে এসবের কোনোকিছুই প্রভাব ফেলছে না ঠাকুরগাঁওয়ের পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। বরং অবসরে এ সময়টাতে স্কুল শিক্ষার্থীরা টাকা রোজগারের পথে নেমে পড়েছে। আম-লিচু বাগানে শ্রমিকের কাজ করছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বেশিরভাগই স্কুল শিক্ষার্থী।

পীরগঞ্জ উপজেলা কলেজিয়েট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মুন্না জানায়, স্কুল বন্ধ তাই বাগনে কাজ করছি। প্রতিদিন কাজ করে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পাই। আর এই টাকা বাবা-মাকে দিই।

একই স্কুলের ছাত্র শাহিনুর রহমান জানায়, তাদের মতো অনেকে বাগানে কাজ করছে। একই ক্লাসের ছাত্র শরিফ বলে, দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে লেখাপড়ার প্রতি তাদের মনোযোগ হারিয়ে যাবে।

নূরুল হুদা নামে এক অভিভাবক বলেন, সবার পক্ষে স্মার্টফোন কিনে অনলাইনে ছেলে-মেয়েদের পড়ানো সম্ভব নয়। এ পদ্ধতির ফলে শিক্ষার্থীরা বৈষ্যম ছাড়াও মনস্তাত্ত্বিক চাপের শিকার হবে।

সদর উপজেলার বগুলাডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধৈর্য ধরে শিশুর প্রতি আরও যত্নশীল হতে হবে। এ সঙ্গে অভিভাবকদের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ বাড়িয়ে তুলতে হবে।

শিক্ষাবিদ আব্দুস সামাদ বলেন, বেশিরভাগ পরিবারে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোথাও মনিটরিং নেই। অথচ শিক্ষার্থীদের বাইরে এরা শিশু; সংবিধান কিংবা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শিশুশ্রম নিষিদ্ধ। অথচ জেলার তিন শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী শ্রমিকের কাজে নেমেছে।

সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুনা লায়লা বলেন, একজন শিক্ষককে অন্তত ৫ শিক্ষার্থীর সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানে যুক্ত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেটি মনিটরিং করা হচ্ছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন বলেন, জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সংসদ টিভি ছাড়াও কিশোর বাতায়ন নামে একটি ওয়েব সাইট চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।