হিলিতে অনলাইন কোরবানির পশুর হাট

মিজানুর রহমান মিজান হিলি
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ ২৩:৩৫

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে হিলিসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোরবানির পশু বেচাকেনা শুরু হয়েছে। আর এই করোনা মহামারী সময়ে এ বছর সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় অনলাইনে কোরবানির পশুর হাট চালু করেছে হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস। তাই এবার হাটে না গিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে বসেই অনলাইনে কোরবানির পশু কেনাকাটা করা যাবে।

প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘অনলাইন কোরবানি পশুর হাট হাকিমপুর’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি আইডি খোলা হয়েছে। যে আইডির সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন খামারি, মিডিয়া ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ যুক্ত আছেন। সেখানে খামারিদের বিক্রয়যোগ্য পশুর ছবি, সম্ভাব্য ওজন, বিক্রেতার নাম-ঠিকানা, মোবাইল নাম্বারসহ পোস্ট করা হচ্ছে। সেখান থেকে ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো পশু কিনতে পারবেন।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রাফিউল আলম বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের করোনা ক্লান্তি সময়ে অনেক ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছে। এটি আমাদের উপজেলার প্রান্তিক থেকে শুরু করে সব ধরনের খামারিদের উপকারে আসবে।

হিলির খামারি আবু রাইহান ও আরমান বলেন, গত বছর আমরা কোরবানি পশু বিক্রি করে লাভবান হয়েছিলাম। এবার সেই লাভের আশায় বেশি পরিমাণ গরু, ছাগল পালন করেছি। তবে করোনা মহামারীতে এসব পশু বিক্রি নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের উদ্যোগে অনলাইন কোরবানি পশুর হাট করায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আমাদের বিক্রয় করা পশুর ছবি, বিক্রেতার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার দিলে ক্রেতারা বাড়ি থেকে এসে নিয়ে যাচ্ছে। এতে করে আমাদের অনেক ভালো হচ্ছে। যদি এ কার্যক্রম চলমান থাকে এবং আমরা সবগুলো পশু এভাবে বিক্রি করতে পারি তা হলে লাভবান হব।

হাকিমপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. রতন কুমার ঘোষ বলেন, আমরা খামারিদের জন্য কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে যে অনলাইন হাট চালু করেছি সেটাতে ভালো সাড়া পাচ্ছি। কেউ যাতে আর্থিক লেনদেন কিংবা অন্যান্য দিকে প্রতারিত না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ফলে খামারিদের পশু বিক্রি করতে খরচ কম লাগবে এবং তারা কিছুটা হলেও লাভবান হবেন। উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুস সামাদ বলেন, এ উপজেলায় এবার কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ৬ হাজার পশুর চাহিদা থাকলেও তার বিপরীতে এখানকার খামারিরা ৯ হাজারের বেশি পশু লালন-পালন করেছেন। প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শে এ পশুগুলো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে লালন-পালন করছেন এখানকার খামারিরা। তবে খামারিদের যাতে এ করোনা মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কোরবানির পশুর হাটে না যেতে হয় সেদিকে লক্ষ রেখে আমরা অনলাইন কোরবানি পশুর হাট কার্যক্রম শুরু করেছি। এ কার্যক্রম চালুর পর থেকে স্থানীয়দের মাঝ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি আমরা।

আবদুস সামাদ আরও জানান, যেহেতু কোরবানির পশুর হাটে ব্যাপক মানুষ ও গরুর সমাগম ঘটে। এতে করে শুধু মানুষের মাঝে নয় পশুদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ছড়াতে পারে। সে কারণে সাধারণ মানুষ ও পশুকে সুস্থ রেখে ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য এ উদ্যোগ নিয়েছি আমরা।