দাম কমছে ফার্নেস অয়েলের

লুৎফর রহমান কাকন
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০৮:৩৯

বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি ফার্নেস তেলের দাম কমিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি এলপিজি বোতল গ্যাসের দাম কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও দেশে অভ্যন্তরীণ বাজারে সেই প্রভাব নেই। জমে যাওয়া ফার্নেস তেল বিক্রি করতে বিপিসি দাম কমিয়েছে। আর বেসরকারি এলপিজি মালিকদের সঙ্গে টিকে থাকতে সরকারি এলপিজি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গত ৩০ জুনের এক প্রজ্ঞাপনে ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। তবে এই কম দাম মূলত বিপিসির কাছে জমা দ্ইু লাখ টন ফার্নেস অয়েলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। ফার্নেস অয়েলের প্রাইসিং ফর্মুলা প্রণয়ন সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিপিসির প্রজ্ঞাপনে সে রকমটাই বলা হয়েছে। ২০১৬ সালে নির্ধারণ করা দামে এতদিন ৪২ টাকায় বিক্রি হতো প্রতিলিটার ফার্নেস তেল। সেটা এখন ৭ দশমিক ৭ টাকা কমিয়ে ৩৪ দশমিক ০৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাস বা বোতল সিলিন্ডারের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিপিসি। এলপিজির দাম কমলে তার সুফল সাধারণ ভোক্তা পাবে। যদিও সরকারি এলপিজি গ্রাহকদের চাহিদার তুলনায় নগণ্য। চাহিদা থাকলেও সব জায়গায় গ্রাহকরা সরকারি এলপিজি পায় না।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি ওজনের এলপিজি বোতলের দাম ছিল এতদিন সাতশ টাকা। সেটা একশ টাকা কমিয়ে ছয়শ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসির করে দেওয়া একটি কমিটি। তবে আগামী ১৪ জুলাই সরকারি এলপিজি কোম্পানির বোর্ড মিটিং। সেখানেই চূড়ান্ত হবে বিষয়টি। যদি বোর্ড মিটিংয়ে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত আসে তবে দ্রুত নতুন মূল্য কার্যকর হবে।

বিষয়টি নিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি আমাদের সময়কে বলেন, সরকারি ইস্টার্ন রিফাইনারি কোম্পানি আমদানি করা ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল থেকে কোয়ালিটি ফার্নেস উৎপাদন করলেও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকরা সরাসরি তেল আমদানি করায় বিপিসির তেল বিক্রি করা যাচ্ছিল না। এ ছাড়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের তেল আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক করাদি রেয়াত সুবিধা থাকায় আমদানিকারকরা লিটারপ্রতি প্রায় ১২ দশমিক ৩৭ পয়সার সুবিধা পেত। ফলে বিপিসির থেকে তেল গ্রহণ না করে নিজস্ব উদ্যোগেই বেসরকারি মালিকদের আমদানি করা লাভ ছিল। ফলে দাম কমিয়ে সেই তেল বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এলপিজি বোতল গ্যাসের দাম কমানো বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, একটা কমিটি কাজ করছে। সেটা কিছুদিন

পর সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, সরকারি তেল পরিশোধন কোম্পানি ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) মাসে এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেল আমদানির পর পরিশোধন করে। প্রায় ৩৩ শতাংশ ডিজেল, ফার্নেস অয়েল ৩০ শতাংশ, কেরোসিন ১১ শতাংশ, ১২ শতাংশ ন্যাফথা, চার শতাংশ পেট্রোল, চার শতাংশ বিটুমিন, ৩ শতাংশ অকটেন, এক দশমিক তিন শতাংশ অন্যান্য জ্বালানির পণ্য উৎপাদন করা হয়। ইআরএল প্রতিমাসে প্রায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস তেল উৎপাদন করে। ফার্নেস অয়েলের চাহিদা নেই; একই সঙ্গে মজুদগারের সংকট।

এদিকে বিপিসির পরিচালক (পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহেদী হাসান আমাদের সময়কে বলেন, নতুন করে ফার্নেসের দাম নির্ধারণ করার পর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ৫৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস তেলের জন্য এলসি দিয়েছে বিপিসিকে। এ ছাড়াও ডিপো থেকে খুব কম পরিমাণে ফার্নেস বিক্রি হচ্ছে। সরকারি এলপিজি বোতলের দাম কমানো বিষয়ে তিনি বলেন, একটি কমিটি কাজ করছে। বেসরকার এলপিজি কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, করোনাসংকটে বিশ্বব্যাপী লকডাউন চলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ কমেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিব্যারেল বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ ডলারের মধ্যে।

বিপিসি সূত্রে জানা যায়, চাহিদা কমে যাওয়ায় দেশে ডিজেল, জেট ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলসহ তিন শ্রেণির জ্বালানির মজুদ উপচে পড়ার মতো। রিজার্ভারে জায়গা খালি না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরমুখী অনেক জাহাজের নোঙরের সময় পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি নীতিমালা অনুযায়ী, ৬০ দিনের জ্বালানি মজুদ থাকার কথা। কিন্তু আমাদের রিজার্ভারগুলোয় ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদ রাখা সম্ভব।

বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতিলিটার ফার্নেস অয়েল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা, (নতুন দাম ৩০.০৩ টাকা) ডিজেল ও কেরোসিন ৬৫ টাকা এবং অকটেন ৮৯ টাকা। ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল এই দাম নির্ধারিত হয়।