তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু উদ্বেগজনক তথ্য

১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০০:১৮

সারা বিশ্বের মানুষ যখন করোনায় বিপর্যস্ত তখন বেশ চুপচাপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন সংবিধান সংশোধন করে আজীবন প্রেসিডেন্ট থাকার জনসমর্থন আদায় করেছেন। পশ্চিমা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রায় অগোচরে পুতিন খুব সুকৌশলে আজীবনের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। তার আগেই অবশ্য চীনের শক্ত মানব প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংবিধান সংশোধন করে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে নিয়েছিলেন। এই দুটি ঘটনা বর্তমান ও আগামী দিনের বিশ্বব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু উদ্বেগজনক তথ্য। চীন বহুদিন ধরেই বিশ্বের যাবতীয় পণ্যবাজারের ওপর দখল কায়েম করে নিয়েছে। ট্রাম্প জমানায় যুক্তরাষ্ট্র চীনকে দমন করার জন্য বাড়তি শুল্ক আরোপ করে রীতিমতো বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেও সুবিধা করতে পারেনি। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের কারণেই স্বাভাবিক মিত্র ইউরোপিয়ান ইউনিয়নকে এ যুদ্ধে পাশে পায়নি। আবার নিজ দল ও দেশবাসীর মতামত উপেক্ষা করে তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক পাতালেও পুতিনের ক্ষমতার উচ্চাভিলাষের হ্রাস টানতে ব্যর্থ হয়েছেন। তা হলে এখনই চীন-রুশ বন্ধুত্বের যুগ শুরু হবে না। হয়তো বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পুরনো ধারার বন্ধুত্ব সম্ভব নয়। কিন্তু ক্রমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়লে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। চীনা প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য কী তা অস্পষ্ট নয়। সোজাসাপ্টা কথায়, তিনি অচিরেই বিশ্বব্যবস্থার প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা অর্জন করতে চান। আর সেজন্যই প্রতিবেশী ভারতের অপর একজন শক্তিশালী রাষ্ট্রনায়কের উত্থানকে তিনি সহজে মানতে পারছেন নাÑ লাদাখের দুর্গম উপত্যকায় রক্তপাত ঘটিয়ে এ কথা ভারতকে বুঝিয়ে দিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যে এই দুই রাষ্ট্রনায়ককে এই অবস্থায় পৌঁছতে কিছুটা বাড়তি সুবিধা করে দিয়েছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পরিস্থিতি যতদূর গড়িয়েছে এবং যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে বাধা দেওয়া সহজও হবে না। কারণ করোনার কারণে ইউরোপের দেশগুলো এখন বিপর্যস্ত। তারা নিজের অর্থনীতির গতি ফেরানোর কাজে আপাতত ব্যতিব্যস্ত। জাপানের পক্ষে অস্থির মার্কিন নেতৃত্বের ওপর ভরসা করে থাকা সম্ভব হবে না। তাই চীনের সঙ্গেই তাকে মানিয়ে চলতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়াকে অস্বস্তিতে রাখার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী উত্তর কোরিয়াকে পুতিন ব্যবহার করছেন। ফলে আপাতত চীন ও রাশিয়ার এই অপ্রতিহত অগ্রগতি থামার সম্ভাবনা নেই। তবে বিশ্বে আগেকার মতো মধ্যবর্তী কোনো শক্তি বা জোট না থাকায় সাম্প্রতিক এই ক্ষমতার ভারসাম্যে রদবদল আগামীতে বিশ্বব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন ঘটাবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে বিশ্বের শান্তিকামী মানুষকে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আপাতত যে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষায় থাকতে হবে তাতেও সন্দেহ নেই। করোনাকালে এটি এক বাড়তি মাথাব্যথার কারণ হতে পারে বিশ্বের সব দেশ ও মানুষের জন্য।