দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে

১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০
আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০০:১৮

করোনা ভাইরাসের কারণে দুই মাস বন্ধ থাকার পর শর্তসাপেক্ষে গত ১৬ জুন বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়। শর্ত হিসেবে সবার করোনামুক্তির সার্টিফিকেট আবশ্যক করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে একদল অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে করোনা নেগেটিভ-পজিটিভ সার্টিফিকেট বিক্রি করছে। সেসব নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে বেশ কিছু দেশে যাওয়া বাংলাদেশিদের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। ফলে সেসব দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

বিমানযাত্রার সময় সবাই করোনামুক্তির সার্টিফিকেট দেখিয়ে উড্ডয়নের সুযোগ পেয়েছিলেন। ফলে যেসব দেশের বিমানপথ বাংলাদেশের জন্য খুলেছিল। সম্প্রতি জাপান, চীনে করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশিরা সে দেশে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ ধরা পড়েছে। ফলে খুলে দেওয়া বিমানপথগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

এভাবে চলতে থাকলে সাধারণ শ্রমিকদের বিদেশ গমন কঠিন হয়ে পড়বে। ৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি কাতার এয়ারওয়েজে ইতালি যেতে না পারলে অনেক শ্রমিক চাকরি হারাবেন। ফলে অন্য দেশের শ্রমিকরা কোভিড পরীক্ষার সার্টিফিকেটসহ অন্য কাগজপত্র ঠিকঠাক করে নিয়ে যাবেন, তারাই এই বাজার দখল করে ফেলবেন; যা আমাদের অর্থনীতিতে আরও বড় ধরনের ধাক্কা আসবে। ব্যক্তিস্বার্থে যারা সার্টিফিকেট বাণিজ্যের কারণে দেশের জন্য এত বড় ক্ষতির মুখে ফেলে দিচ্ছে, সেটি খতিয়ে দেখা উচিত। প্রশ্ন হলোÑ যাত্রীর করোনা সার্টিফিকেট সত্য না মিথ্যা, তা যাচাই-বাছাই না করে সিভিল এভিয়েশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেন তাদের দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দিল? বিষয়টি যাচাই করা দরকার। এবং যারা এ কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত, তাদের প্রয়োজনীয় কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। নইলে অন্য দেশের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা জন্মাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশগুলোর সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে চরম বিপদের মুখে পড়বে বাংলাদেশ। এভাবে চললে দেশের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণœ হবে। ফলে আমাদের দেশের অর্থনীতি বড় রকমের ক্ষতির মুখে পড়বে, এটা নিশ্চিত। দেশের একটি অসাধু চক্রের কারণে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এভাবে চলতে দেওয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে সরকার পদক্ষেপ নিয়ে এ জটিলতা নিরসনের জন্য দ্রুত সমাধান বের করবে বলে প্রত্যাশা করছি।