গাজীপুরে অপহৃত শিশু কাঁঠালবাড়ী ঘাটে উদ্ধার

শিবচর প্রতিনিধি
১১ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০ ০২:১৯

গাজীপুরের গাছা থেকে অপহরণের দুদিন পর মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট থেকে গ্রিস প্রবাসী আবদুল কাদেরের শিশুপুত্র আবদুল্লাহকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির বাবার বাড়ি ভাড়া নেওয়ার এক দিন পরই ভাড়াটিয়া নারী কিছু কিনে দেওয়ার কথা বলে আবদুল্লাহকে অপহরণ করেন। পরে পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। শিশুটির গেঞ্জিতে লেখা মোবাইল নম্বর দিয়েই শনাক্ত হয় ঠিকানা। শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের গাছার মধ্যপাড়া গ্রামে গ্রিস প্রবাসী আবদুল কাদেরের স্ত্রী সাজেদা আক্তার তার ৪ বছরের একমাত্র শিশুপুত্র আবদুল্লাহকে নিয়ে নিজ বাড়িতে থাকেন। মঙ্গলবার এক নারী এসে ওই বাড়ি ভাড়া নেয়। বাসা ভাড়া নিয়েই বিভিন্ন জিনিসপত্র খাইয়ে ও আন্তরিক ব্যবহারে সাজেদার মন কাড়েন ভাড়াটিয়া। বুধবার বেলা ১১টার দিক ওই নারী শিশু আবদুল্লাহকে নিয়ে বাজারে যেতে চাইলে মা আর না করেন না। কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যেও ওই নারী আবদুল্লাহকে নিয়ে ফিরে না এলে সাজেদা তাকে ফোন দেয়। ভাড়াটিয়া নারী ১০/১৫ মিনিট পর আসছেন বলে জানান। এর পরও না ফেরায় আধা ঘণ্টা পর আবার ফোন দিলে একই কথা বলেন ভাড়াটিয়া। কয়েক ঘণ্টা পর ওই নারী সাজেদার কাছে সন্তানকে পেতে হলে ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এর পর রাতে সাজেদা গাজীপুরের গাছা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ ও র‌্যাব মাঠে নামে। কিন্তু বারবার স্থান পরিবর্তন করে অপহরণকারীরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে শিশুটিকে কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তার গায়ের গেঞ্জিতে লেখা মায়ের মোবাইল নম্বরে কল দিয়ে শিবচর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ নিশ্চিত হন শিশুটি অপহরণের শিকার হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে শিশুটির স্বজনরা গাছা থানা পুলিশের একটি টিম নিয়ে আবদুল্লাহকে নিতে শিবচর থানায় আসে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে পরিবারের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাছা থানার এসআই উদয়ন বিকাশ বড়–য়া বলেন, বাড়ি ভাড়া নিয়ে শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা বারবার স্থান পরিবর্তন করে। পরে একপর্যায়ে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে রেখে যায় শিশুটিকে।