পরিবহন নেতা খুন : সিলেটে পরিবহন সেক্টরে আবার অস্থিরতা

সিলেট ব্যুরো
১২ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২০ ০০:১৪

সিলেটে এক পরিবহন শ্রমিক নেতা খুনের ঘটনায় আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে পরিবহন সেক্টরে। শুক্রবার রাতে দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ রিপন। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে। রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তারা দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্ট, চন্ডিপুল পয়েন্ট, পারাইরচক, হুমায়ুন রশিদ চত্বর, শেরপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে হাজার হাজার গাড়ি আটকে পড়ায় দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ব্যাপক বিক্ষোভের পর শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন ট্যাংক লরি শ্রমিকরা।

এ ঘটনায় দক্ষিণ সুরমা থানায় ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের স্ত্রী ফারজানা আক্তার। পুলিশ নোমান ও সাদ্দাম নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল জানান, এ ব্যাপারে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

আন্দোলনকারী শ্রমিকরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

বিভিন্ন সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবনা পয়েন্টস্থ রেলওয়ের সাধুরবাজার সংলগ্ন যমুনা ওয়েল ডিপোর পাশে রয়েছে ট্যাংকলরির সদস্য মো. ইউনুস মিয়ার তেল বিক্রির একটি দোকান। গত ২৭ রমজান বরইকান্দি এলাকার এজাজুল, রিমু, মুন্নার নেতৃত্বে ৭-৮ জন সন্ত্রাসী সশস্ত্র অবস্থায় সেখানে গিয়ে টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় তারা ইউনুস মিয়া ও তার শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে দোকানের ক্যাশে থাকা তেল বিক্রির প্রায় ৩ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইউনুস মিয়া বাদী হয়ে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করেন। উক্ত ঘটনায় বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল আহমদ রিপন জোরাল পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

বিভাগীয় ট্যাংক লরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মনির হোসেন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমির আলীসহ শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত প্রায় ১০টার দিকে সাধারণ সম্পাদক রিপন যমুনা ওয়েল ডিপোসংলগ্ন তার দোকান বন্ধ করে সহযোগী বাবলা মিয়াকে নিয়ে পিরোজপুর রোডস্থ পূর্ব খোজারখলার বাসায় ফিরছিলেন। বাবনা পয়েন্টে আসা মাত্র সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর হামলা করে। ধারাল ছোরার আঘাতে গুরুতর আহত হন রিপন। ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ব্যাপারে ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার বলেন, অতিসত্বর দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে সিলেট বিভাগজুড়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।