একই সিটিস্ক্যান মেশিনে সব পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ০০:২৫

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের একই ভবনে কোভিড ও নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসাসেবা চলছে। এ ছাড়া একই সিটিস্ক্যান মেশিন দিয়ে চলছে এই দুই ধরনের রোগীর পরীক্ষার কাজ। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী, চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভায় নন-কোভিড রোগীর সিটিস্ক্যান ও এমআরআইসহ সব ধরনের পরীক্ষা সরকার নির্ধারিত ফিতে বাইরের প্রাইভেট বেসরকারি ল্যাবে করানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে নন-কোভিড রোগীরা ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে অথবা বাড়তি ফি দিয়ে বাইরের বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হলেও নির্বিকার করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি।

অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন এবিএম মশিউল আলম জানান, সরকার নির্ধারিত ফিতে কেবল সিটিস্ক্যান পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের বাইরের ৩টি বেসরকারি ল্যাবকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এমআরআই ও ডায়ালাইসিসের কী হবে? এমন প্রশ্নে সিভিল সার্জন জানান, এখনো এটি করা যায়নি। মনিটরিং প্রশ্নে সিভিল সার্জন জানান, এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিস্ময় প্রকাশ করে জানায়, বাইরের ল্যাবে পরীক্ষার বিষয় করোনা প্রতিরোধ কমিটিই মনিটরিং করার কথা। স্থানীয় সূত্র জানায়, গত মার্চের

প্রথমদিকে চালুর পর থেকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ছয়তলা থেকে অষ্টমতলা পর্যন্ত ৩টি ফ্লোরে কোভিড রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। একই ভবনের নিচের ফ্লোরগুলোতে দেওয়া হচ্ছে নন-কোভিড রোগীদের চিকিৎসা। পাশাপাশি পুরনো ভবনেও চলছে নন-কোভিড রোগীর চিকিৎসাসেবা। কোভিড রোগীর সেবা চালুর পর থেকে নতুন ভবনের নেফ্রোলজি ওয়ার্ডে কিডনি রোগীর ডায়ালাইসিসসহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নিউরো সার্জারি, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ও ইউরোলজির অপারেশন থিয়েটার। একই সিটিস্ক্যান মেশিনে পালা করে চলছে কোভিড, নন-কোভিড রোগীর পরীক্ষা। এই ভবনেই রয়েছে প্যাথলজি ল্যাব ও অন্যান্য পরীক্ষার ব্যবস্থাসহ হাসপাতালের বহির্বিভাগ। ফলে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই চলছে সবকিছু। নন-কোভিড রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য প্রতিদিন হাসপাতালের বাইরের প্রাইভেট ল্যাবে যেতে হচ্ছে। অথচ করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্ত ছিল নতুন ভবনকে কোভিড করা হলে হাসপাতালে আসা রোগীদের সরকার নির্ধারিত ফিতে বাইরের বেসরকারি ল্যাবে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু এক মাসেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

এদিকে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন সরবরাহ সুবিধা নিয়ে নতুন ভবনে কোভিড চিকিৎসা চালু হলেও নেই হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কেনা দুটি ও অনুদানের একটি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে চলছে ১৫০ বেডের কোভিড হাসপাতালে রোগীর সেবা। অথচ জটিল কোভিড রোগীর জন্য এই হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অপরিহার্য।

এই সুবিধা না থাকায় মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. চিত্ত রঞ্জন দেবনাথ ও মেডিসিনের এক সহকারী অধ্যাপককে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে পাঠাতে হয়েছে ঢাকায়।

হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. লক্ষ্মী নারায়ণ মজুমদার জানান, হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার জন্য সিএমএসডিকে পত্র দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো সরকারিভাবে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা মেলেনি। তবে হাসপাতালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দুটি ক্যানোলা কিনেছে। এ ছাড়া একজন দানবীর একটি ক্যানোলা অনুদান করেছেন হাসপাতালকে। এই ৩টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলাই এখন কোভিড রোগীর ভরসা। গতকাল পর্যন্ত এই কোভিড হাসপাতালে ১০ চিকিৎসকসহ ভর্তি রয়েছেন ৪১ কোভিড রোগী। প্রয়োজনীয় হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা না থাকায় জটিল কোভিড রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে।