মোংলা বন্দরের মুনাফা ১১৫ কোটি টাকা

মোংলা প্রতিনিধি
১৬ জুলাই ২০২০ ০০:০০ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২০ ০০:২৫

বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন সময়েও মোংলা সমুদ্রবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে তেমন প্রভাব পড়েনি। ফলে সদ্য শেষ হওয়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১১৫ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মুনাফা অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৯১২টি দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়ে মোংলা বন্দরে। ওইসব জাহাজ থেকে হ্যান্ডলিং করা হয় এক কোটি ১৩ লাখ টন বাল্ক কার্গো এবং ৫৭ হাজার ৭৩২ টিইউজ কন্টেইনারজাত পণ্য। আর ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৯০৩টি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে ভেড়ে। ওইসব জাহাজ থেকে বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয় ১ কোটি ১০ লাখ টন এবং কন্টেইনার পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয় ৫৯ হাজার ৪৫৭ টিইউজ। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ২৩৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। বিগত অর্থবছরের তুলনায় গেল অর্থবছরে শতকরা ২ দশমিক ৪৭ ভাগ কমেছে রাজস্ব আয়। আর বছরের শুরুতে রাজস্ব আয়ের টার্গেট নির্ধারণ ছিল ৪ হাজার ৬৯২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কিন্তু আমদানি-রপ্তানি পণ্য হ্যান্ডলিং করে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় হয়েছে ৩২০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা, সংস্কার ও উন্নয়ন

কাজে ২০৫ কোটি টাকা ব্যয় বাদ দিয়ে, ১১৫ কোটি টাকা নিট মুনাফা (লাভ) অর্জন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৩২৯ কোটি ১২ লাখ টাকা আয় এবং ১৯৬ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয় হওয়ার পরও বিগত ওই বছরে ১৩৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছিল মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর থেকে বন্দরের পণ্য উঠানামার কার্যক্রম সচল ছিল সব সময়। তবে করোনার প্রভাবে সড়কপথে পণ্য পরিবহনে বেশকিছু ঝামেলা ছিল। বন্দরে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে সড়ক ও নৌপথে যে কোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সব দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করেছি। এ ছাড়া বন্দরের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তা ছাড়া বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতে বছরে প্রায় ১০ লাখ টিইউজ কন্টেইনারজাত পণ্য হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে। চলমান বিশ্বব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব কাটিয়ে উঠলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের আয় আরও বৃদ্ধি পাবে এমন প্রত্যাশা করেন বন্দর চেয়ারম্যান। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বন্দরের মুনাফা হয়েছে ১১৫ কোটি ১৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বন্দরের এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।