যা দেখেছেন, তাই বলেছেন রায়হান

অনলাইন ডেস্ক
২৯ জুলাই ২০২০ ১৫:০৫ | আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২০ ১৮:২১
রায়হান কবির

মালয়েশিয়ায় করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালীন প্রবাসীদের প্রতি যে আচরণ দেখেছেন, তাই বলেছেন বলে জানিয়েছেন রায়হান কবির। আজ বুধবার মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় রায়হানের সঙ্গে দেখা করার পর এ তথ্য জানিয়েছেন তার আইনজীবী সুমিতা শান্তিনি কিষনা।

রায়হানের সঙ্গে দেখা করে প্রায় ঘণ্টাখানেক তার সঙ্গে কথা বলেন কিষনা। তিনি বলেন, রায়হান মালয়েশিয়ার কাউকে আহত করতে চাননি। 

কিষনা বলেন, রায়হান সুস্থ ও আত্মবিশ্বাসী আছেন। দেশের মানুষ তার সঙ্গে আছে, এ কথা তাকে জানানো হয়েছে।

রায়হানকে গ্রেপ্তারের পর তার সঙ্গে কোনো দুর্ব্যবহার করা হয়নি বলে তিনি কিষনাকে জানিয়েছেন। কোভিড-১৯ চলাকালে যা দেখেছেন, তাই বলেছেন এবং এগুলো তার একান্তই নিজস্ব অনুভূতি বলেও জানান তিনি।

রায়হান দ্রুত দেশে ফিরতে চান জানিয়ে কিষনা আরও জানান,  রায়হানের সঙ্গে দেখার করার পর মালয়েশিয়ার পুলিশ অনুমতি সাপেক্ষে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

এর আগে, গত সোমবার রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে চান কিষনা ও অন্যান্য আইনজীবীরা। তবে মালয়েশিয়ান ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদের পরে তারিখ দেওয়ার কথা জানান। সে মোতাবেক বুধবার ১১টার সময় দেওয়া হয় তাদের। নির্ধারিত সময়ে গিয়ে রায়হানের সঙ্গে কথা বলেন আইনজীবীরা। সে সময় ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, মালয়েশিয়ার অভিবাসন পুলিশের মহাপরিচালক ঘোষণা করেছেন, রায়হান কবিরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং আজীবনের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করা হবে, যেন তিনি আর মালয়েশিয়ায় ঢুকতে না পারেন।

মালয়েশিয়ায় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সরকারের নীতির সমালোচনার করার প্রতিশোধ হিসেবেই বাংলাদেশি শ্রমিক রায়হান কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সেইসঙ্গে রায়হানকে অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ব্যাপারে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক ফিল রবার্টসন এক বিবৃতিতে বলছেন, ‘রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের নেওয়া পদক্ষেপ সব অভিবাসী শ্রমিকদের অবাধ গ্রেপ্তার, বহিষ্কার, কালো তালিকাভুক্তির মতো অধিকার হরণের মতো ঘটনায় কথা বলার বিরুদ্ধে একটি শীতল বার্তা দিচ্ছে। তথ্যচিত্রের একজন বক্তব্যদাতাকে গ্রেপ্তার করা মানে হলো মালয়েশিয়ার বাক স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিধ্বংসী হামলা।’

করোনা মহামারির সময় অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের আচরণ নিয়ে ৩ জুলাই প্রচারিত আল জাজিরার একটি তথ্যচিত্রে রায়হান কবির বক্তব্য দেন। এরপর রায়হান কবির এবং আল জাজিরা উভয় মালয়েশিয়ার সরকারের টার্গেটে পরিণত হয় বলে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে।